চট্টগ্রাম ০২:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
নান্দাইলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি নেত্রকোণায় জমি বিরোধে হামলা-হুমকি, নষ্ট করা হলো আমনের চারা শিবচরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি, উঠল ঐক্যের ডাক বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কটিয়াদীতে দুই দফায় র‌্যালি-সমাবেশ কুসরকের নতুন কমিটি প্রকাশ, নেতৃত্বে নাহিদ-জাকারিয়া ওষুধে মেয়াদ শেষ, খাবার তৈরিতে অনিয়ম; খুলনায় বড় অঙ্কের জরিমানা নাগেশ্বরীতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার নানা আয়োজনে হরিরামপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ৭ হাজার একর জমিতে আখ রোপণের লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে কার্যক্রম শুরু বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় শাড়ি-কসমেটিক্সসহ ৫ লাখ ৮১ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

ইউএনও মনোরঞ্জন বর্মনের ফোন না ধরায় তথ্যপ্রাপ্তি বাধাগ্রস্ত—ক্ষুব্ধ সাংবাদিক ও ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ

বোরহানউদ্দিন ইউএনও’র ফোনে সাড়া মেলে না: বিপাকে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ

ইমন রহমান — ভোলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:০১:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ৯৮ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভোলা প্রতিনিধি:

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মনের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ফোন কল না ধরা, সংবাদসংক্রান্ত তথ্য প্রদান থেকে বিরত থাকা এবং সন্ধ্যার পরে সরকারি মুঠোফোন বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানান— গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার কল, এসএমএস পাঠানো হলেও ইউএনও কোনো ধরনের সাড়া দেন না। শুধু সাংবাদিকই নন, প্রশাসনিক প্রয়োজনে সাধারণ মানুষও ইউএনও’র সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরছেন। এতে জনসেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সংবাদ প্রকাশেও সৃষ্টি হচ্ছে জটিলতা।

জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ভোলা জেলা শাখার দায়িত্বশীল সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন— দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইউএনও মনোরঞ্জন বর্মনের সঙ্গে যোগাযোগ করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য নিতে উপজেলা পরিষদে গেলেও সচরাচর তাকে পাওয়া যায় না।

গণমাধ্যমকর্মী পরাণ আহসান, আব্দুর রহমান (ইমন), তানজিল হোসেনসহ আরও অনেকে বলেন, “প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মকর্তার জনগণকে তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু তিনি ফোন ধরেন না, বার্তার জবাব দেন না। এতে তথ্যের স্বচ্ছতা বিঘ্নিত হচ্ছে। সাংবাদিকদের বারবার অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরুণ রিপোর্টার বলেন, “ঢাকার সচিবরাও ফোন রিসিভ করেন। কিন্তু বোরহানউদ্দিনের ইউএনওকে পাওয়া যায় না। অনেকেই নিজেকে সর্বেসর্বা ভাবেন— এটাই বড় সমস্যা।”

ভোলার সিনিয়র সাংবাদিকরা জানান— বিষয়টি নতুন নয়; দীর্ঘদিন ধরেই ইউএনও ফোনে সাড়া দিচ্ছেন না। সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও ডিসিকে অবহিত করা হয়েছে, কিন্তু পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।

শুধু সাংবাদিক নয়— সাধারণ মানুষের অভিযোগও একই। নামজারি, ভিজিএফ–ভিজিডি, জমি–জমার বিরোধসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজে যোগাযোগ করেও ইউএনওকে পাওয়া যায় না বলে জানান অনেকে। এতে তারা নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়ছেন।

স্থানীয় সুশীল সমাজ মনে করে— প্রশাসন ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই স্থানীয় সমস্যাগুলো উদঘাটন সম্ভব। কিন্তু তথ্য না পাওয়ার প্রবণতা স্বচ্ছ প্রশাসনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে— উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোগাযোগের আওতার বাইরে থাকলে প্রশাসনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা কমে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছায় না এবং প্রশাসন–জনগণের দূরত্ব বৃদ্ধি পায়।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে ইউএনও মনোরঞ্জন বর্মনের সরকারি নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর মেলেনি।

জনগণের তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এবং স্বচ্ছ প্রশাসন গড়তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় সচেতন মহল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইউএনও মনোরঞ্জন বর্মনের ফোন না ধরায় তথ্যপ্রাপ্তি বাধাগ্রস্ত—ক্ষুব্ধ সাংবাদিক ও ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ

বোরহানউদ্দিন ইউএনও’র ফোনে সাড়া মেলে না: বিপাকে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ

আপডেট সময় : ১১:০১:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

ভোলা প্রতিনিধি:

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মনের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ফোন কল না ধরা, সংবাদসংক্রান্ত তথ্য প্রদান থেকে বিরত থাকা এবং সন্ধ্যার পরে সরকারি মুঠোফোন বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানান— গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার কল, এসএমএস পাঠানো হলেও ইউএনও কোনো ধরনের সাড়া দেন না। শুধু সাংবাদিকই নন, প্রশাসনিক প্রয়োজনে সাধারণ মানুষও ইউএনও’র সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরছেন। এতে জনসেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সংবাদ প্রকাশেও সৃষ্টি হচ্ছে জটিলতা।

জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ভোলা জেলা শাখার দায়িত্বশীল সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন— দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইউএনও মনোরঞ্জন বর্মনের সঙ্গে যোগাযোগ করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য নিতে উপজেলা পরিষদে গেলেও সচরাচর তাকে পাওয়া যায় না।

গণমাধ্যমকর্মী পরাণ আহসান, আব্দুর রহমান (ইমন), তানজিল হোসেনসহ আরও অনেকে বলেন, “প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মকর্তার জনগণকে তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু তিনি ফোন ধরেন না, বার্তার জবাব দেন না। এতে তথ্যের স্বচ্ছতা বিঘ্নিত হচ্ছে। সাংবাদিকদের বারবার অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরুণ রিপোর্টার বলেন, “ঢাকার সচিবরাও ফোন রিসিভ করেন। কিন্তু বোরহানউদ্দিনের ইউএনওকে পাওয়া যায় না। অনেকেই নিজেকে সর্বেসর্বা ভাবেন— এটাই বড় সমস্যা।”

ভোলার সিনিয়র সাংবাদিকরা জানান— বিষয়টি নতুন নয়; দীর্ঘদিন ধরেই ইউএনও ফোনে সাড়া দিচ্ছেন না। সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও ডিসিকে অবহিত করা হয়েছে, কিন্তু পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।

শুধু সাংবাদিক নয়— সাধারণ মানুষের অভিযোগও একই। নামজারি, ভিজিএফ–ভিজিডি, জমি–জমার বিরোধসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজে যোগাযোগ করেও ইউএনওকে পাওয়া যায় না বলে জানান অনেকে। এতে তারা নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়ছেন।

স্থানীয় সুশীল সমাজ মনে করে— প্রশাসন ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই স্থানীয় সমস্যাগুলো উদঘাটন সম্ভব। কিন্তু তথ্য না পাওয়ার প্রবণতা স্বচ্ছ প্রশাসনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে— উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোগাযোগের আওতার বাইরে থাকলে প্রশাসনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা কমে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছায় না এবং প্রশাসন–জনগণের দূরত্ব বৃদ্ধি পায়।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে ইউএনও মনোরঞ্জন বর্মনের সরকারি নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর মেলেনি।

জনগণের তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এবং স্বচ্ছ প্রশাসন গড়তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় সচেতন মহল।