জবি জকসু নির্বাচনে সনাতনী শিক্ষার্থীদের বাড়তি আগ্রহ—ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে তাদের ভোটব্যাংক
জকসু নির্বাচনে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩ সনাতনী শিক্ষার্থী
- আপডেট সময় : ০৭:০৪:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫ ৪৮ বার পড়া হয়েছে

জবি প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে দুইজন স্বতন্ত্র এবং একজন বাম সমর্থিত সংগঠন ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’-এর প্রার্থী।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী চন্দন কুমার দাস এবং সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মিঠুন চন্দ্র রায়। দুইজনই সনাতনী শিক্ষার্থীদের জন্য উপাসনালয় স্থাপন, ধর্মীয় আচার পালনের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
অন্যদিকে, ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সংগীত বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী গৌরব ভৌমিক। তিনি সকল শিক্ষার্থীর সংস্কৃতি ও ধর্ম পালনের স্বাধীনতা, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক ক্যাম্পাস গঠনে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
জকসুর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, মোট ১৬ হাজার ৩৬৫ ভোটারের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ভোটার সনাতন ধর্মাবলম্বী। ফলে এই ভোটারদের সমর্থন নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
প্রার্থী হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বুলিং-এর শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী চন্দন কুমার দাস। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, মনোনয়ন নেওয়ার পর থেকেই একটি গোষ্ঠী তাকে সংখ্যালঘু হিসেবে আখ্যা দিয়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের আচরণের কঠোর নিন্দা জানান তিনি।
জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী জানিয়ে চন্দন কুমার দাস বলেন, “দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ক্যাম্পাসে সনাতনী শিক্ষার্থীদের জন্য উপাসনার নির্দিষ্ট স্থান নেই। আমি নির্বাচিত হলে সবার আগে মন্দির নির্মাণ করবো। একইসাথে অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের জন্যও উপাসনালয়ের ব্যবস্থা রাখবো। এছাড়া আবাসন সংকট নিরসন, পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়ন, ক্লাসরুম আধুনিকায়ন, গবেষণাগার সম্প্রসারণ, সেশনজট নিরসন এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে কাজ করবো।”
অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী মিঠুন চন্দ্র রায় বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে সনাতনী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, উপাসনালয় নির্মাণ, শারদীয় দুর্গাপূজা এবং ধর্মীয় ছুটির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেবো। একইসাথে ছাত্র আন্দোলন, গবেষণা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখবো।”
বাম সমর্থিত প্রার্থী গৌরব ভৌমিক বলেন, “বাম রাজনীতি মানে মানবিক রাজনীতি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, সাশ্রয়ী খাবার, গবেষণা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ এবং যার যার সংস্কৃতি ও ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই আমার মূল লক্ষ্য। সনাতনী শিক্ষার্থীদের জন্য মন্দির নির্মাণও আমার পরিকল্পনায় রয়েছে।”
জানা গেছে, জকসু নির্বাচনে ২১টি পদের বিপরীতে ২১১ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ছাত্রীহলের ১৩ পদের বিপরীতে ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ৪টি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল এবং একটি আংশিক প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। আগামী ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে জকসু নির্বাচন।




















