স্বামী তপুর টাকার চাপ, নির্যাতন ও হুমকির জেরে মৃত্যু নাকি পরিকল্পিত হত্যা—প্রশ্ন এখন পুরো মণিরামপুরে।
আত্মহত্যা নাকি হত্যাঃ মণিরামপুরে ব্রাক কর্মী বন্যার ঝুলন্ত মরদেহ, দেড় বছরের মেয়েকে রেখে স্বামী পলাতক!
- আপডেট সময় : ১০:৫৯:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫ ৭১ বার পড়া হয়েছে

যশোর প্রতিনিধিঃ
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার চিনাটোলা বাজার এলাকায় এক ভয়াবহ ও রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) রাতে স্থানীয় একটি ভাড়া বাড়ি থেকে ব্র্যাক বাংলাদেশের কর্মী মোছাঃ বন্যা আক্তার (৩২)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বন্যার স্বামী মেহেদী হাসান তপু (শ্যামকুড় ময়নাবাড়ি, মণিরামপুর) পলাতক রয়েছেন। নিহত বন্যা এক দেড় বছরের শিশু কন্যা তুবাকে রেখে গেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যা ও তপুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। প্রায়ই স্বামী তপু বন্যার কাছ থেকে টাকা দাবি করতেন এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের বোন ইনমুন নাহার বর্ষা। বর্ষা জানান, বন্যা ব্র্যাক এনজিও থেকে লোন তোলার পর সেই টাকাও তপু আত্মসাৎ করে। স্বর্ণালংকার, মোটরসাইকেল বিক্রির টাকাসহ প্রায় ১২ লক্ষ টাকার বেশি অর্থ নিয়ে নেয় তপু।
ঘটনার রাতে বন্যা ও তপু কেশবপুর থেকে বাড়ি ফেরেন। কিছুক্ষণ পর বন্যার কন্যা তুবা কান্নাকাটি শুরু করলে পাশের ভাড়াটিয়া জানালা দিয়ে দেখে বন্যা ফ্যানের সাথে ঝুলছেন। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা তাকে নামিয়ে পুলিশে খবর দেয়।
মণিরামপুর থানার ওসি মোঃ বাবলুর রহমান খান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন না পাওয়ায় প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে, বন্যার পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
বন্যার ভাই আব্দুর রাজ্জাক ও মামা আবুল কালাম জানান, “এটা আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। তপু ও তার প্রথম স্ত্রী মিলে বন্যাকে হত্যা করেছে। থানার প্রভাবশালী মহল মামলাটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করছে।”
ঘটনাস্থলের বাড়ির মালিক বিশ্বজিৎ দাস জানান, “ঘরে সিসিটিভি থাকলেও রেকর্ড পাওয়া যায়নি।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। মৃতের পরিবার বলছে, তারা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হবেন।














