দক্ষিণ রামখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিফিনের সময় ঘটনার অভিযোগ; ছাত্রীর বাবার মামলায় গ্রেপ্তার শিক্ষক
নাগেশ্বরীতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ১১:১৪:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আব্দুল মোতালেব নামে এক সহকারী শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের দক্ষিণ রামখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার আব্দুল মোতালেব ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি দক্ষিণ রামখানা ভূঁইয়াটারী এলাকার রইচ উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, (৩১ আগস্ট) দুপুরে বিদ্যালয়ের টিফিনের সময় ওই ছাত্রী টয়লেটে যায়। অভিযোগ, এ সময় শিক্ষক আব্দুল মোতালেবও টয়লেটে প্রবেশ করে তাকে জাপটে ধরেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির মধ্যে ওই ছাত্রী নিজেকে ছাড়িয়ে টয়লেট থেকে বেরিয়ে আসে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ে টিফিনের বিরতি চলছিল। এ সময় কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী দুপুরের খাবারের জন্য বাড়িতে চলে যান। ফলে বিদ্যালয়ের ওই অংশে লোকজনের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হলে ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি নেন। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টি আপস-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা হলেও অর্থের বিনিময়ে রফাদফার অভিযোগটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ছাত্রীর পরিবারের আরও অভিযোগ, এর আগেও প্রায় তিন মাস আগে ওই শিক্ষক মেয়েটির প্রতি অশোভন আচরণ করেছিলেন। তখন বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রীর বাবা।
পরে ঘটনার খবর পেয়ে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ অভিযান চালায়। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল মোতালেবকে আটক করা হয়। পরে ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে নাগেশ্বরী থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক প্রধান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার স্বার্থে তার নাম, ছবি, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের পরিচয় বা এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, যার মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।




















