যৌথ গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে পাটের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, ব্লেন্ডেড ফাইবার ও উচ্চমূল্যের পাটজাত পণ্য উৎপাদনে জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।
চীনের অভিজ্ঞতায় পাট ও টেক্সটাইল খাতের রূপান্তর চান মন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৪:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

চীনের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের পাটশিল্পে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং উচ্চমূল্যের পাটজাত পণ্য উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সোমবার রাজধানীর জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারে (জেডিপিসি) চীনের ঝেজিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘Costume, Culture and Connection: A Bilateral Symposium on Traditional Attire and Cultural Exchange’ শীর্ষক দ্বিপক্ষীয় সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাট খাতকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনকারী এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক শিল্পে রূপান্তর করতে চীনের প্রযুক্তিগত ও একাডেমিক সহযোগিতা কাজে লাগানো হবে। এ ক্ষেত্রে শিল্প, একাডেমিয়া ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, চীনের ঝেজিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটির মতো আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। দেশের টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও ভোকেশনাল শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক বিশ্বের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তুলতে হবে।
এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটগুলোর কারিকুলাম পর্যালোচনা করে চীনের আধুনিক টেক্সটাইল শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। পাশাপাশি চীনের অভিজ্ঞ শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ এবং বাংলাদেশের ফ্যাকাল্টিদের চীনে পাঠিয়ে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরির কথাও জানান তিনি।
বর্তমান বিশ্ব দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শিল্পসংশ্লিষ্টদের যুক্ত করতে হবে। বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে।
বাংলাদেশের বস্ত্র খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে প্রায় ৩৮-৩৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করছে। তবে উচ্চমূল্যের পণ্য ও ভ্যালু অ্যাডেড টেক্সটাইল উৎপাদনের মাধ্যমে একই পরিমাণ রপ্তানি থেকেও আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
এ জন্য বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতকে ম্যান-মেড ফাইবার (MMF) ও ভ্যালু অ্যাডেড পণ্যের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, শিল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে টেক্সটাইল খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অর্থনৈতিক রূপান্তরের সঙ্গে অনেক দেশ এ খাত থেকে অন্যান্য শিল্পে এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশের জন্য টেক্সটাইল খাতে আরও উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে এ রূপান্তরকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।
পাটকে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও আবেগের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হিসেবে উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পাটের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, নতুন পণ্য উদ্ভাবন এবং উচ্চমূল্যের পাটজাত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে এ খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে।
কাঁচা পাটের পরিবর্তে পাটকে ব্লেন্ডেড ফাইবার, ফেব্রিক ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের পণ্যে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এর ফলে পাট খাতের সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়বে বলে মনে করেন মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, পাটের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেলে কৃষকরাও উপকৃত হবেন এবং পাট চাষে তাদের আগ্রহ বাড়বে। তাই উৎপাদন থেকে শুরু করে গবেষণা, প্রযুক্তি, পণ্য উদ্ভাবন ও বাজার সম্প্রসারণ—সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চীনের ঝেজিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটি ও চাইনিজ একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের প্রতিনিধিরা, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।




















