চট্টগ্রাম ০১:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
নান্দাইলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি নেত্রকোণায় জমি বিরোধে হামলা-হুমকি, নষ্ট করা হলো আমনের চারা শিবচরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি, উঠল ঐক্যের ডাক বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কটিয়াদীতে দুই দফায় র‌্যালি-সমাবেশ কুসরকের নতুন কমিটি প্রকাশ, নেতৃত্বে নাহিদ-জাকারিয়া ওষুধে মেয়াদ শেষ, খাবার তৈরিতে অনিয়ম; খুলনায় বড় অঙ্কের জরিমানা নাগেশ্বরীতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার নানা আয়োজনে হরিরামপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ৭ হাজার একর জমিতে আখ রোপণের লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে কার্যক্রম শুরু বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় শাড়ি-কসমেটিক্সসহ ৫ লাখ ৮১ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

প্রথমবারের মতো ৮ বিঘা জমিতে ৮০ হাজার আনারসের চারা, সফল ফলনের আশায় কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির

ফরিদপুরের সালথায় ৮ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিক আনারস চাষ, কৃষক মিলনের চোখে কোটি টাকার স্বপ্ন

মোঃ ইলিয়াছ খান, সালথা উপজেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুর
  • আপডেট সময় : ০২:১০:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ ১৫৭ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সালথা, ফরিদপুর | ২ জুন ২০২৬:

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করে আলোচনায় এসেছেন কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির। উপজেলার যদুনন্দী গ্রামে ৮ বিঘা জমিজুড়ে প্রায় ৮০ হাজার আনারসের চারা রোপণ করে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি বিশাল বাগান। সফল ফলন হলে এ প্রকল্প থেকে প্রায় এক কোটি টাকার আয় হবে বলে আশাবাদী তিনি।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সালথায় এই প্রথম এত বড় পরিসরে আনারসের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলে ফল চাষের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন মিলন ফকির। গত বছর শখের বসে নিজের বাড়ির ছাদে কয়েকটি আনারস গাছ লাগান তিনি। সেখানে আশানুরূপ ফলন পাওয়ার পর বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষের সিদ্ধান্ত নেন।

পরবর্তীতে টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকা থেকে ক্যালেন্ডার ও জলডগু জাতের প্রায় ৮০ হাজার আনারসের চারা সংগ্রহ করে ৮ বিঘা জমিতে রোপণ করেন। বর্তমানে বাগান পরিচর্যা, জমি প্রস্তুত ও চারা সংগ্রহসহ বিভিন্ন খাতে তার প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির বলেন, “ছাদে আনারস চাষে ভালো ফল পাওয়ার পর আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। তখনই বড় পরিসরে আনারস চাষের পরিকল্পনা করি। বর্তমানে ৮ বিঘা জমিতে আনারসের বাগান করেছি। আগামী বছর ফলন সংগ্রহ শুরু হবে। ফলন ভালো হলে প্রায় এক কোটি টাকার আনারস বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে শুধু আনারস বিক্রিই নয়, উন্নত মানের আনারসের চারা উৎপাদন ও বিপণনেরও পরিকল্পনা রয়েছে তার। এই উদ্যোগ সফল হলে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও আনারস চাষে আগ্রহী হবেন বলে মনে করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২ জুন) সরেজমিনে বাগান ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়েছে আনারসের চারা। পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা বাগানটি ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা বাগান দেখতে আসছেন এবং আনারস চাষ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, তাদের এলাকায় আগে কখনো এভাবে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ হতে দেখেননি। মিলন ফকিরের সফলতা অন্য কৃষকদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে তারা মনে করেন।

সালথা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, “সালথায় প্রথমবারের মতো ৮ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিক আনারস চাষ করা হয়েছে। এটি এ অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার সূচনা করেছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি এই উদ্যোগ সফল হলে আরও কৃষক লাভজনক ফল চাষে এগিয়ে আসবেন।”

স্থানীয়দের মতে, প্রচলিত ধান ও সবজি চাষের বাইরে গিয়ে মিলন ফকিরের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সফল হলে ফরিদপুর অঞ্চলে আনারস চাষের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য সৃষ্টি হবে আয়ের নতুন সুযোগ এবং কৃষি খাতে যুক্ত হবে নতুন সম্ভাবনার অধ্যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রথমবারের মতো ৮ বিঘা জমিতে ৮০ হাজার আনারসের চারা, সফল ফলনের আশায় কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির

ফরিদপুরের সালথায় ৮ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিক আনারস চাষ, কৃষক মিলনের চোখে কোটি টাকার স্বপ্ন

আপডেট সময় : ০২:১০:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

সালথা, ফরিদপুর | ২ জুন ২০২৬:

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করে আলোচনায় এসেছেন কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির। উপজেলার যদুনন্দী গ্রামে ৮ বিঘা জমিজুড়ে প্রায় ৮০ হাজার আনারসের চারা রোপণ করে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি বিশাল বাগান। সফল ফলন হলে এ প্রকল্প থেকে প্রায় এক কোটি টাকার আয় হবে বলে আশাবাদী তিনি।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সালথায় এই প্রথম এত বড় পরিসরে আনারসের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলে ফল চাষের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন মিলন ফকির। গত বছর শখের বসে নিজের বাড়ির ছাদে কয়েকটি আনারস গাছ লাগান তিনি। সেখানে আশানুরূপ ফলন পাওয়ার পর বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষের সিদ্ধান্ত নেন।

পরবর্তীতে টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকা থেকে ক্যালেন্ডার ও জলডগু জাতের প্রায় ৮০ হাজার আনারসের চারা সংগ্রহ করে ৮ বিঘা জমিতে রোপণ করেন। বর্তমানে বাগান পরিচর্যা, জমি প্রস্তুত ও চারা সংগ্রহসহ বিভিন্ন খাতে তার প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির বলেন, “ছাদে আনারস চাষে ভালো ফল পাওয়ার পর আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। তখনই বড় পরিসরে আনারস চাষের পরিকল্পনা করি। বর্তমানে ৮ বিঘা জমিতে আনারসের বাগান করেছি। আগামী বছর ফলন সংগ্রহ শুরু হবে। ফলন ভালো হলে প্রায় এক কোটি টাকার আনারস বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে শুধু আনারস বিক্রিই নয়, উন্নত মানের আনারসের চারা উৎপাদন ও বিপণনেরও পরিকল্পনা রয়েছে তার। এই উদ্যোগ সফল হলে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও আনারস চাষে আগ্রহী হবেন বলে মনে করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২ জুন) সরেজমিনে বাগান ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়েছে আনারসের চারা। পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা বাগানটি ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা বাগান দেখতে আসছেন এবং আনারস চাষ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, তাদের এলাকায় আগে কখনো এভাবে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ হতে দেখেননি। মিলন ফকিরের সফলতা অন্য কৃষকদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে তারা মনে করেন।

সালথা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, “সালথায় প্রথমবারের মতো ৮ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিক আনারস চাষ করা হয়েছে। এটি এ অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার সূচনা করেছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি এই উদ্যোগ সফল হলে আরও কৃষক লাভজনক ফল চাষে এগিয়ে আসবেন।”

স্থানীয়দের মতে, প্রচলিত ধান ও সবজি চাষের বাইরে গিয়ে মিলন ফকিরের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সফল হলে ফরিদপুর অঞ্চলে আনারস চাষের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য সৃষ্টি হবে আয়ের নতুন সুযোগ এবং কৃষি খাতে যুক্ত হবে নতুন সম্ভাবনার অধ্যায়।