কিশোরগঞ্জ, পাকুন্দিয়া, হত্যা, পরকীয়া, পরকীয়ার জেরে হত্যা, মো রানা, জোবায়েদ হত্যা, কিশোরগঞ্জ পুলিশ, পাকুন্দিয়া থানা, গ্রেপ্তার, অপরাধ সংবাদ, বাংলাদেশ পুলিশ, ক্রাইম নিউজ, ঈদুল আজহা, হত্যাকাণ্ড
কিশোরগঞ্জে পরকীয়ার জেরে যুবক হত্যা: ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার, পুলিশের দ্রুত সাফল্য
- আপডেট সময় : ১২:৩০:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি মো. রানাকে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল ও আসামির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ | ৩১ মে ২০২৬ : কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি মো. রানা (৩৮)-কে ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করায় জেলা পুলিশের এ অভিযান ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মো. রানা প্রায় ১৮ বছর আগে জেসমিন আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক ঘনিষ্ঠতার কারণে রানার মামাতো ভাই জোবায়েদ (২৬)-এর সঙ্গে পরিবারের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। একপর্যায়ে জোবায়েদের সঙ্গে রানার স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
প্রাথমিক তদন্ত ও আসামির জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে রানা বিষয়টি জানতে পেরে স্ত্রী ও জোবায়েদকে সম্পর্ক থেকে সরে আসার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু তারা সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে জেসমিন আক্তার মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
পুলিশ আরও জানায়, পবিত্র ঈদুল আজহার দুই দিন আগে রানা জানতে পারেন যে তাঁর স্ত্রী জোবায়েদের বাড়িতে অবস্থান করছেন। সেখানে গিয়ে তিনি তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে স্বীকার করেন। এরপর থেকেই তিনি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ঈদুল আজহার পরদিন রানা একটি ধারালো দা সংগ্রহ করেন। পরে কৌশলে জোবায়েদকে পাকুন্দিয়া উপজেলার শৈলজানী এলাকার পুরপুরা ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত জোবায়েদকে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কটিয়াদী সার্কেল)-এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হোসেনপুর থানার শাহেদল ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে প্রধান আসামি মো. রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল এবং আসামির কাছ থেকে রক্তমাখা পোশাকসহ মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে। নিহত জোবায়েদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পাকুন্দিয়া থানায় ৩০ মে ২০২৬ তারিখে পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার নম্বর-২২।
কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, “অপরাধ দমনে পুলিশ প্রশাসন সর্বদা পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও দ্রুততার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ সচেষ্ট রয়েছি।”













