স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ, জৈব কৃষি ও কৃষি ঐতিহ্য রক্ষায় সচেতনতামূলক আয়োজন
হরিরামপুরে কৃষকদের উদ্যোগে কৃষি প্রাণবৈচিত্র্য মেলা অনুষ্ঠিত, স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ ও জৈব চাষে গুরুত্বারোপ
- আপডেট সময় : ০৯:১৬:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ১১০ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার সুলতানপুর (বটতলা) মাঠে গ্রিন কোয়ালিশন, বারসিক ও স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগে কৃষি প্রাণবৈচিত্র্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল ৩টায় আয়োজিত এ মেলায় স্থানীয় কৃষকরা বীজবৈচিত্র্য, ভেষজ উদ্ভিদ, কৃষি যন্ত্রপাতি ও মাটির তৈরি সামগ্রীর বিভিন্ন স্টল প্রদর্শন করেন।
মেলায় স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত ও সংরক্ষিত দেশীয় বীজ যেমন দিঘা ধান, হিজল দিঘা ধান, লাউ ও বেগুনের বীজ বিনিময় করা হয়। এছাড়া পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা, জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ এবং স্থানীয় কৃষি ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিষয়েও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
মেলায় বক্তব্য দেন বলড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আওয়াল সিকদার, কবিরাজ রাশেদা আক্তার, কৃষক বিজ্ঞানী আব্দুল বাতেন, কৃষক উদ্যোক্তা শহীদ বিশ্বাস, বারসিকের সহযোগী সমন্বয়কারী সত্যরঞ্জন সাহা, প্রোগ্রাম অফিসার মুকতার হোসেন, কৃষি কর্মকর্তা ময়নাল হক, হরিরামপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি নাজমুল চৌধুরী এবং হরিরামপুর প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও হরিরামপুর স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
কৃষি কর্মকর্তা ময়নাল হক বলেন, স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগে দেশীয় বীজবৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জৈব উপায়ে চাষাবাদ সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি। মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবুজ সার ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, কৃষি বীজবৈচিত্র্য বাংলার ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ঐতিহ্য রক্ষায় এগ্রোইকোলজি ভিত্তিক কৃষি চর্চা সম্প্রসারণ প্রয়োজন। মেলায় স্থানীয় কৃষকরা তাদের পরিবেশসম্মত কৃষি উদ্যোগ ও অভিজ্ঞতা একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করেন।
এছাড়া প্রাণবৈচিত্র্য মেলায় কাঠের তৈরি কৃষি উপকরণ যেমন নাঙ্গল, জোয়াল, মই ও মাতাইল প্রদর্শন করা হয়। দেশীয় কৃষি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে এসব উপকরণ দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মেলা শেষে স্থানীয় শিল্পীরা দেশ, মাটি ও মানুষের গান পরিবেশন করেন, যা পুরো আয়োজনকে উৎসবমুখর করে তোলে।




















