সাবেক মন্ত্রী-এমপি, কুকিচিন ও ইসকন নেতার নাম তালিকায় — চট্টগ্রামে আলোড়ন
চট্টগ্রামে মানিলন্ডারিং ঝড়: মন্ত্রী-এমপি থেকে কুকিচিন ও ইসকন নেতাসহ ১৪৫ জনের নাম প্রকাশ
- আপডেট সময় : ০৭:৪১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫ ৯৩ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং (অবৈধ অর্থ লেনদেন) আইনে এক বিস্তৃত অনুসন্ধানের প্রস্তাব প্রকাশিত হয়েছে। এই অনুসন্ধান চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) গত কয়েক মাসের অনুসন্ধান শেষে সাবেক মন্ত্রী, এমপি, সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র–কাউন্সিলর, ব্যবসায়ী, কুকিচিন ‘লিয়াজোঁকারী’, ইসকন নেতা এবং আওয়ামী লীগ–যুবলীগ–ছাত্রলীগের নেতাসহ মোট ১৪৫ জনের নাম অনুসন্ধান তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
তালিকায় অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয়, পেশা, মামলা সংখ্যা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও অপরাধের ধরন বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অনেক সাবেক মন্ত্রী ও এমপির নাম বাদ পড়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে রহস্যের জন্ম দিয়েছে।
সভা ও অনুসন্ধান প্রক্রিয়া
চলতি অক্টোবরের শুরুতে দামপাড়া সিএমপি সদর দপ্তরে এ সংক্রান্ত মামলাগুলো নিয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস)।
সিএমপি সূত্রে জানা যায়, ২৮ মে থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাস ১৩ দিনের অনুসন্ধানে মোট ১৪৬ জনের নাম আসে। পুনরাবৃত্তি বাদ দিলে চূড়ান্ত সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪৫ জনে।
তালিকার বেশিরভাগ ব্যক্তি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এমনকি মৃত্যুবরণ করা এক সাবেক কাউন্সিলর—তারেক সোলেমান সেলিমের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রভাবশালী নামের দীর্ঘ তালিকা
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সাবেক এমপি এম এ লতিফ, আবু রেজা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী, দিদারুল আলম দিদার, এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, মহি উদ্দিন বাচ্চু, সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী ও আ জ ম নাছির উদ্দিন।
সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলরদের মধ্যে রয়েছেন শৈবাল দাশ সুমন, হাসান মুরাদ বিপ্লব, পুলক খাস্তগীর, মাছ কাদের, মোরশেদ আলম, নূর মোস্তফা টিনু প্রমুখ।
এছাড়া তালিকায় রয়েছেন কুকিচিন লিয়াজোঁকারী নিয়াজ হায়দার, কুকিচিন প্রতিনিধি মং হ্লাচিং মারমা এবং ইসকন নেতা লক্ষণ কান্তি দাশ (লীলারাজ)।
রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী অঙ্গনের অন্তর্ভুক্তি
আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নামও তালিকায় রয়েছে। ব্যবসায়ী ও অর্থ লগ্নকারীদের মধ্যেও রয়েছে গার্মেন্টস মালিক, সিএন্ডএফ এজেন্ট, মাদক ব্যবসায়ী ও দালাল শ্রেণির একাধিক নাম।
অভিযোগ ও মামলার সংখ্যা
সিএমপি সূত্রে জানা যায়, নগরীর ১২ থানায় মোট ৩৭৬টি মামলা এদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। অভিযোগের ধরন—চাঁদাবাজি, মানিলন্ডারিং, হত্যা, জালিয়াতি, মাদক ব্যবসা, প্রতারণা ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন। কিছু অভিযুক্তের নামে ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে।
আইনি মতামত ও পরবর্তী ধাপ
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জিয়া হাবিব আহসান বলেন, “মানিলন্ডারিং মামলাগুলো জটিল ও সংবেদনশীল। আদালতের নির্দেশক্রমে সিআইডি বা এন্টি টেররিজম ইউনিটের মাধ্যমে তদন্ত করাই সঠিক।”
এক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, “তদন্ত সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ায় হবে। অভ্যন্তরীণ তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”














