স্বামী পরিত্যক্তা নারী বাদি হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় অভিযোগ
বিয়ের প্রলোভনে খাদিজার সঙ্গে প্রতারণা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ, এলাকায় চাঞ্চল্য
- আপডেট সময় : ১০:৫৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৪০ বার পড়া হয়েছে

আশিকুজ্জামান রানা | লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কর্নপুর ব্যাপারীটারী গ্রামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নির্যাতনের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী খাদিজা বেগম (২৮) বাদি হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে লালমনিরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খাদিজা বেগম একজন স্বামী পরিত্যক্তা নারী। তিনি দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একই গ্রামের মৃত হাসান আলীর ছেলে ফজলু মিয়া (৪৫) তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কার্যকলাপ, মানসিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল।
ঘটনাটি প্রথমে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করলে গত ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে গ্রাম্যভাবে আপোষ-মীমাংসা করা হয়। সে সময় অভিযুক্ত ফজলু মিয়া ভবিষ্যতে খাদিজার সঙ্গে কোনো ধরনের অশোভন আচরণ বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন।
তবে আপোষের পরও ফজলু মিয়া এলাকায় খাদিজা বেগমকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করতে থাকেন। এতে খাদিজা প্রতিবাদ না করায় গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফজলু মিয়ার কুপরামর্শে ও যোগসাজশে অজ্ঞাতনামা ৫–৬ জন যুবক খাদিজার বাবার বাড়িতে গিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করেন।
স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এলে হামলাকারীরা খাদিজার ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
এ ঘটনায় খাদিজা বেগম বাদি হয়ে কর্নপুর ব্যাপারীটারী গ্রামের জোহরা বেগম (৩৮), জসিম (১৯) ও ফজলু মিয়া (৪৫) এর বিরুদ্ধে লালমনিরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী খাদিজা বেগম অভিযোগে বলেন, প্রায় এক বছর আগে ফজলু মিয়া তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। একপর্যায়ে গত ৮ জানুয়ারি ২০২৫ রাত ১১টার দিকে ফজলু মিয়া তার বাবার বাড়িতে প্রবেশ করে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরে বিয়ের কথা বললে অভিযুক্ত তাকে হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে চলে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ ও পুনরায় ধর্ষণের হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আঃ মতিন বলেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





















