কম খরচে বেশি লাভ—নতুন সম্ভাবনার ফসল তুলা
রাজশাহীর আড়ানীতে তুলার ব্যাপক চাষ: কম খরচে বেশি লাভে ঝুঁকছেন কৃষকরা
- আপডেট সময় : ০২:৫৯:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী এলাকায় ধান, গম ও শাকসবজির পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে তুলা চাষ দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। স্বল্প জমিতে তুলনামূলক কম খরচে অধিক লাভের সম্ভাবনা থাকায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে তুলা চাষে আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।
একসময় আড়ানী এলাকায় সীমিত পরিসরে তুলা চাষ হলেও অন্যান্য ফসলের আধিক্যের কারণে তা তেমন গুরুত্ব পায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তুলার বাজারমূল্য স্থিতিশীল থাকা এবং ফলন সন্তোষজনক হওয়ায় পুরোনো চাষিরা আবারও এ ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি নতুন কৃষকরাও তুলা চাষে যুক্ত হচ্ছেন।
স্থানীয় এক তুলা চাষি বলেন, “আমি অনেক বছর ধরে তুলা চাষ করছি। এতে খরচ কম, পরিচর্যাও তুলনামূলক সহজ। বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায় বলে এখন অনেক কৃষক আগ্রহী হচ্ছেন।”
রাজশাহী জোনের আড়ানীর কটন ইউনিট অফিসার মো. হোসেন আলী জানান, “এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া তুলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আমরা দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের তুলা চাষে উৎসাহ দিয়ে আসছি। সফল হলে আড়ানীতে বিকল্প ফসল হিসেবে তুলা চাষ আরও সম্প্রসারণ করা হবে। তালিকাভুক্ত চাষিদের সরকারি সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।”
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তুলা চাষ সম্প্রসারণ হলে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে। তবে উন্নত ফলন নিশ্চিত করতে আধুনিক চাষ পদ্ধতি অনুসরণ ও নিয়মিত পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বাঘা ও চারঘাট উপজেলায় বর্তমানে মোট ৩০০ জন তুলা চাষি রয়েছেন—এর মধ্যে বাঘায় ২০০ জন ও চারঘাটে ১০০ জন। চলতি মৌসুমে দুই উপজেলায় ৩ হাজার মণ তুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার বাঘা ও চারঘাট মিলিয়ে প্রায় ৬৫০ বিঘা জমিতে তুলা আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে বাঘায় প্রায় ২০০ বিঘা।





















