উৎপাদন খরচ বাড়লেও ভালো ফলন ও তুলনামূলক বাজারদরে স্বস্তি; প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকায়
পাঁচবিবিতে পাটের দামে স্বস্তি, লাভের মুখ দেখছেন কৃষক
- আপডেট সময় : ০৭:০১:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

পাঁচবিবি, জয়পুরহাট | ২৩ আগস্ট ২০২৬ : গত কয়েক বছর পাটের ফলন বিপর্যয়, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হয়েছে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার অনেক পাটচাষিকে। তবে চলতি মৌসুমে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। অনেক কৃষকের জমিতে পাটের ক্ষতি হলেও আশানুরূপ ফলন হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ায় সোনালি আঁশে এবার লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা।
এতে পাঁচবিবির পাটচাষিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে এবং অনেকের মুখে ফুটেছে হাসি।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে হালচাষ, সার, কীটনাশক, নিড়ানী, পাট কাটা, জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর শ্রমিক মজুরিসহ পাটের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে বাজারে অনেক সময় উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দাম পাওয়ায় লোকসানে পড়তে হয়েছে চাষিদের। ফলে অনেক কৃষক পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন।
পাঁচবিবি উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের পূর্ব কড়িয়া গ্রামের কৃষক নুরুল আমিন নওশাদ প্রতিবছর তিন থেকে চার একর জমিতে পাট চাষ করতেন। তবে হালচাষ ও শ্রমিকের খরচ বৃদ্ধি এবং ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কয়েক বছর ধরে তিনি পাটের আবাদ কমিয়ে দেন।
চলতি মৌসুমে তিনি মাত্র এক একর জমিতে পাট চাষ করেছেন। নুরুল আমিন নওশাদ বলেন, এবার বাজারে পাটের কাঙ্ক্ষিত দাম থাকায় তিনি পাট চাষ করে লাভবান হওয়ার আশা করছেন।
উপজেলার ধরঞ্জী গ্রামের পাটচাষি নুরুল ইসলাম এবার দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। তিনি জানান, হালচাষ, নিড়ানী, সার ও কীটনাশক, পাট কর্তন এবং আঁশ ছাড়ানোসহ প্রতি বিঘা জমিতে তার প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে এবার প্রায় ৮ থেকে ১০ মণ পাটের ফলন হচ্ছে। বাজারে বর্তমান দাম অব্যাহত থাকলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি মৌসুমের শুরুতে পুরোনো পাট প্রতি মণ ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা এবং নতুন পাট ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।
তবে কৃষকের ঘরে ব্যাপকভাবে পাট ওঠার পর বাজারে দাম কিছুটা কমতে শুরু করে। বর্তমানে পাঁচবিবি বাজারে পাটের মান ও ধরনভেদে প্রতি মণ প্রায় ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে বিভিন্ন এলাকার ফড়িয়ারা কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতি মণ ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকা দরে পাট কিনছেন।
তবে ফড়িয়াদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ওজন নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, পাট কেনার সময় ‘ধলতা’ বা অতিরিক্ত ওজনের নামে প্রতি মণে প্রায় এক কেজি বেশি পাট নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত বিক্রয়মূল্য থেকে কৃষকরা কিছুটা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের।
পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জসিম উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের ফলন আশানুরূপ হয়েছে।
তিনি বলেন, বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকরা এ বছর পাট বিক্রি করে প্রত্যাশিত আয় করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পাটের বর্তমান বাজারদর কৃষকদের অনুকূলে থাকলে আগামী মৌসুমে পাঁচবিবি উপজেলায় পাটের আবাদ আবারও বাড়তে পারে। এতে কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল পাটের উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি





















