মনু ও ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে ২৮ ইউনিয়ন প্লাবিত, ১৪৮ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত, ত্রাণ বিতরণ শুরু
মৌলভীবাজারে ভয়াবহ বন্যা: ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, ভেঙেছে বাঁধ, চরম খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট
- আপডেট সময় : ০৩:৪২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ৭৯ বার পড়া হয়েছে

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার জেলার মনু ও ধলাই নদীর একাধিক স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে জেলার মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর, কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলার ২৮টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার প্রায় ১০ হাজার পরিবারের অন্তত ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা, আউশ ধানের ক্ষেত, শীতকালীন সবজি এবং অসংখ্য মাছের খামার। নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে রয়েছে। দুর্গত মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার ও গবাদিপশুর খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল ৪টায় মনু নদের চাঁদনীঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া মনু নদের রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে পানি ২২৩ সেন্টিমিটার, ধলাই নদীর রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে ২৭৫ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে এবং জুড়ি নদীর পানি ২৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ১ হাজার ৭৫০ ব্যাগ শুকনো খাবারসহ ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বড়লেখায় ২৬০, জুড়িতে ১৫৭, কুলাউড়ায় ৩৪০, রাজনগরে ২১০, মৌলভীবাজার সদরে ৩১৩, শ্রীমঙ্গলে ২৩৫ এবং কমলগঞ্জে ২৩৫ ব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনগর উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মনু ও ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর, হরিপাশা, ইব্রাহীমপুরসহ প্রায় ২৫টিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। টেংরা ও কামারচাক ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে।
কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রাজাপুর ও শিকড়া এলাকার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিকড়া, আলিনগর, ধামুলি ও আশপাশের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়। যদিও কিছু এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে, হাকালুকি, কাউয়াদিঘি ও হাইল হাওরের পানি এখনও বাড়ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া জানান, পানিবন্দি মানুষের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে। জেলার ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার বলেন, উপজেলার টেংরা, কামারচাকসহ কয়েকটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ এখনও পানিবন্দি রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত মেরামতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রাখা হয়েছে এবং জরুরি প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।





















