সিএনজি ঘটনার দায়ে দোকানদার গ্রেফতার, সিসিটিভি ফুটেজে মিলছে না অভিযোগের সত্যতা
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় ‘দ্রুত বিচার’ বিতর্ক: নিরপরাধ চায়ের দোকানদার জেলে, প্রশ্নে পুলিশের ভূমিকা
- আপডেট সময় : ০৬:১৯:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬ ৯৮ বার পড়া হয়েছে
বাকলিয়া এলাকায় চায়ের দোকানের সামনে ঘটে যাওয়া সিএনজি ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার হওয়া দোকানদারের ঘটনা ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় একটি চায়ের দোকানকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় আইন প্রয়োগ ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি সিএনজি সংক্রান্ত ঘটনার জেরে নিরপরাধ এক দোকানদারকে দ্রুত বিচার আইনে আসামি করা হয়েছে।
জানা যায়, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১০টা ২৫ মিনিটে একটি অচল সিএনজি স্থানীয় একটি চায়ের দোকানের সামনে এনে রাখা হয়। কিছুক্ষণ পর দুই ব্যক্তির মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দোকানের ভেতরে থাকা লোকজন তাদের বাইরে বের করে দেন। এরপর একজন ব্যক্তি দৌড়ে পালিয়ে যান এবং অপরজন সিএনজি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, দোকানদার মোঃ রফিকুল ইসলাম পুরো সময় ঘটনাস্থলে থাকলেও তিনি কোনো সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন না। তিনি তার দোকানের কাজেই ব্যস্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
তবে ঘটনার প্রায় ১০-১৫ মিনিট পর ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে দোকানদারকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে আটক করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাকে দোকানের ভেতরে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং পরে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পরদিন তাকে আদালতে প্রধান আসামি হিসেবে হাজির করা হয়। অভিযোগ আনা হয় যে, তিনি সিএনজি গাড়িটি নিজের হেফাজতে রাখেননি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, দোকানদারের “দায়িত্ব ছিল গাড়িটি নিরাপদে রাখা।” অন্যদিকে আরেক কর্মকর্তা জানান, “তিনি চাইলে গাড়ি আটকাতে পারতেন।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সাধারণ নাগরিকের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব চাপানো আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং এটি মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
১৩ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন রফিকুল ইসলাম। তার পরিবারে পাঁচ সদস্য রয়েছে, যার মধ্যে দুইজন শিশু কন্যা। দোকানটিই ছিল তার একমাত্র আয়ের উৎস। বর্তমানে তিনি আর্থিক সংকট ও মানসিক চাপে দিন কাটাচ্ছেন।
রফিকুল ইসলামের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
এ ঘটনায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলে তারা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঘটনাটি ঘিরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—
একজন সাধারণ দোকানদারের কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব রয়েছে?
সিসিটিভি ফুটেজ ও মামলার বর্ণনায় এত পার্থক্য কেন?
দ্রুত বিচার আইন কি অপব্যবহারের ঝুঁকিতে রয়েছে?
স্থানীয়দের মতে, প্রভাবশালী কোনো পক্ষ না থাকায় দরিদ্র দোকানদার সহজ টার্গেটে পরিণত হয়েছেন



















