জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘মেধাবী প্রকল্প’-এর শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের প্রোডাকশন’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ফরহাদ বিন বাসিত।
সোমবার (১৫ আগস্ট) রাত জাগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামন পাকিস্তানের পতাকা আঁকার সময় বাকবিতণ্ডা থেকে ধস্তাধস্তিতে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডি প্রথমে পতাকা আঁকার চেষ্টা রোধ করলে, আস-সুন্নাহ হলের একজন শিক্ষার্থী পাকিস্তানের ছবি আঁকার বিষয়ে আপত্তি জানালে ছাত্রদলের নেতারা তাকে ‘পাকিস্তানের দোসর’ বলে আক্রমণ করেন।
হলের শিক্ষার্থীরা বাসে চলে যেতে চাইলে তাদের পথ রোধ করা হয়। এ সময় ফরহাদ বিন বাসিতসহ একাধিক ছাত্রদলের নেতা উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন এবং আস-সুন্নাহ শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের প্রোডাকশন’ বলে অভিহিত করেন।
ফরহাদ বিন বাসিত বলেন, “পাকিস্তানের পতাকা সর্বদা আমাদের পায়ের নিচে থাকবে। এটা অঙ্কন করতে আমাদের কেনো অনুমতি লাগবে? ইসরায়েলের পতাকা অঙ্কন করতে তো অনুমতি লাগে নি।”
হলের শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ ট্যাগ দেওয়ার প্রতিবাদে ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য হাবিবুল বাশার সুমন ফেসবুকে লিখেছেন, “আস-সুন্নাহ মেধাবী প্রজেক্টে অবস্থান করছি! তাহলে আমিও কি রাজাকার?”
এর আগে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফিনের নেতৃত্বে রাতভর প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়েছিলেন। তারা উপাচার্যের গাড়ি অবরোধ রাখেন। ভোর পাঁচটার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর ক্যাম্পাস ছাড়েন উপাচার্য ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে পতাকা আঁকতে হলে অনুমতি প্রয়োজন। তারা অনুমতি না নিয়ে পতাকা অঙ্কন শুরু করেছে। শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসকে ক্যাম্পাস থেকে বের হতে বাধা দেওয়া হয়।”