ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া মাইলের মাথা এলাকায় পানবোঝাই মিনিট্রাক ও একটি বাসের সংঘর্ষে পটিয়ার দুই পানচাষী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতের এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান কমল চৌধুরী (৫৯) ও সমীর চৌধুরী (৫৬)।
আহতরা হলেন— তপন চৌধুরী (৪৬), উজ্জ্বল চৌধুরী (৫০), ভোলা চৌধুরী (৫৭) ও বাদল চৌধুরী (৪৬)। তাঁদের মধ্যে তপন চৌধুরীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ও আহত সবাই চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি সপ্তাহে শনি ও বুধবার পটিয়ার হাইদগাঁও এলাকার পানক্ষেত থেকে মিরসরাইয়ের মিঠাইছড়া বাজারে পান পরিবহন করা হয়। শুক্রবার রাতেও পানবোঝাই ৭ থেকে ৮টি মিনিট্রাক বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সীতাকুণ্ড মাইলের মাথা এলাকায় পৌঁছালে পিছন দিক থেকে একটি দ্রুতগতির বাস মিনিট্রাকটিকে ধাক্কা দিলে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার সময় ট্রাকের পেছনে থাকা দুইজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। সামনে থাকা তিনজন তুলনামূলক কম আহত হলেও তপন চৌধুরীর অবস্থা গুরুতর হয়।
হাইদগাঁও কৃষক কল্যাণ সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, “পান একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী কৃষিপণ্য, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে। পান পরিবহনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
স্বজন হারানোর বেদনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো হাইদগাঁও এলাকা।