সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তিন দফা দাবির বাস্তবায়নের জন্য সরকারী হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। ফলে দেশের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও তালাবদ্ধ কর্মসূচি চলছে। এর ফলে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি, এবং শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপের মধ্যে পড়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক খায়রুন নাহার লিপি জানান, “আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। দাবি বাস্তবায়নে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।” অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জরুরি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শিক্ষকদের অবিলম্বে কর্মে ফিরতে নির্দেশ দিয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
তবে, যশোরের কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা চালাচ্ছেন। মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীমা খাতুন জানান, “এখানে শিক্ষকরা তাদের একাডেমিক দায়িত্ব পালন করছেন, তাই সমস্যা হচ্ছে না।”
দেশে প্রায় ৬৫,৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন লাখ ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষক কর্মরত। দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে থাকায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, বিশেষ করে বার্ষিক পরীক্ষার সময়।
নেছারাবাদে আন্দোলনরত শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। তবে শিক্ষকরা দাবি করেছেন, আন্দোলন শান্তিপূর্ণ এবং তারা শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।