জবি প্রতিনিধি:
সাত কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং প্রস্তাবিত স্কুলিং পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষকরা। বুধবার (০৩ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় কলেজ প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখানে সংবাদ সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলি মুখোপাধ্যায়সহ শতাধিক শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপরেখা প্রণয়নে যথাযথ প্রক্রিয়া, গবেষণা কিংবা কোনো স্টেকহোল্ডারের মতামত গ্রহণ করা হয়নি। রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সাতটি সরকারি কলেজকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় গঠন ও প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ সময় শিক্ষক ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামো অনুযায়ী সোহরাওয়ার্দী ও কবি নজরুল কলেজকে এক অনুষদে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থী থাকবে মাত্র ৭০ জন। এতে কলেজ দুটির বর্তমান অবকাঠামো ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে নারী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগও রাখেনি সরকার।

ইসলাম শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়িত হলে সাত কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়বে। আমরা সাত কলেজের ঐতিহ্য ও শিক্ষা পরিবেশ রক্ষার জন্য মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি।

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখা সভাপতি ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, প্রতিটি সিদ্ধান্তে সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষা পরিবেশ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখা সভাপতি ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মশিউর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আল কামাল মো. আসাদুজ্জামান। বক্তব্য দেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আব্দুল হালিম ও কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম।

পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক আল কামাল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া অধ্যাদেশে শিক্ষকদের ভর্তি, ক্লাস, পরীক্ষা কিংবা প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়নি। ফলে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কার্যত পুরো প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ছে। সিলেবাস ও প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারিত না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এখন এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছেন।

তিনি আরও বলেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় মডেলে সরকারি কলেজে আসনসংখ্যা কমে গেলে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে উচ্চফি নির্ভর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে ভর্তি হবেন, ফলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বাণিজ্যিকীকরণ ত্বরান্বিত হবে।