বরিশালের বেলস পার্কে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে ৮ দলের বিভাগীয় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) ইসলামপন্থীদের ক্ষমতায় সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আপনারা বহু শাসন দেখেছেন—এবার ইসলামকে সুযোগ দিন। আমরা একটি সুখী, সমৃদ্ধ ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র উপহার দিতে চাই।”
আজ ২ ডিসেম্বর ২০২৫ (মঙ্গলবার) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই মহাসমাবেশ ছিল আটদলীয় ঐক্যের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এতে আট দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
পীর সাহেব চরমোনাই অভিযোগ করেন, দেশের সম্পদ পাচার, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে জনগণকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “যারা বারবার দেশের মানুষের বিশ্বাস ভেঙে ক্ষমতায় গেছেন, তাদের জায়গা বাংলার মাটিতে আর নেই।” তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘ষড়যন্ত্রপূর্ণ’ উল্লেখ করে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দেন।
তিনি আরও বলেন, “ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে শান্তি ও ন্যায়বিচার ফিরে আসবে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবাই স্বাধীনভাবে বসবাস করবে।”
সমাবেশে তিনি বেগম খালেদা জিয়া ও জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ তাহেরের সুস্থতা কামনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “আমরা আট দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছি কুরআনের আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। আল্লাহর দল—হিজবুল্লাহর অংশ হয়ে আমরা ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র গড়তে চাই। সংস্কারের মাধ্যমে সংবিধানের ইসলামবিরোধী ধারা বাতিল করতে হবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, একটি দল নিষিদ্ধ হলেও তাদের সহযোগী অনেক সংগঠন এখনো নিষিদ্ধ হয়নি। ভবিষ্যতে ৮ দলকে বিজয়ী করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, মুফতী সৈয়দ এছহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বাসির আজাদ, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন, মাওলানা জালালুদ্দিন, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, রাশেদ প্রধান, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, অধ্যক্ষ মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চানসহ আরও অনেকে।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ দেশব্যাপী শান্তি, ন্যায়বিচার, দুর্নীতি দমন এবং ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক রাষ্ট্রের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান।