ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার করুয়াকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মলিনা রানীর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও কর্তৃত্ববাদী আচরণের অভিযোগ উঠেছে। তার অধীনস্থ সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার বলে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, যোগদানের পর থেকেই প্রধান শিক্ষিকা মলিনা রানী বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি, বিভিন্ন বরাদ্দ আত্মসাৎ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অসদাচরণসহ নানা ধরনের অনিয়ম করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—
নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকেও হাজিরায় স্বাক্ষর করা
১১টায় এসে ১২টার আগে বিদ্যালয় ত্যাগ
স্লিপ ও কনটিনজেন্সির বরাদ্দ আত্মসাৎ
বিভিন্ন অনুষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ
বিদ্যালয়ের সরঞ্জাম বাড়িতে নিয়ে যাওয়া ও বিক্রি করা
শিক্ষকদের নামাজের জায়গা ভাঙচুর ও ধর্মীয় কাজে বাধাদান
মিড-ডে মিলের রুটি আত্মসাৎ
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও গালিগালাজ
রুটিনে ক্লাস থাকা সত্ত্বেও ক্লাস না নেওয়া
অভিভাবকদের সঙ্গে অসদাচরণ
বিদ্যালয়ের মাঠে শিশুদের খেলাধুলায় বাধা
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ
বিভিন্ন জিনিস বাকিতে নিয়ে টাকা পরিশোধ না করা
বিদ্যালয়ের টিউবওয়েল ও মোটর মেরামত না করায় পানির সংকট
চক, ডাস্টার, কাগজ, কলম, এমনকি পরীক্ষার খাতা পর্যন্ত না কেনা
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে—সরকারি নিয়মে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফি না থাকলেও তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন এবং সহকারী শিক্ষকদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছেন।
সহকারী শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, “এই প্রধান শিক্ষিকার অধীনে আমরা আর কাজ করতে চাই না। তিনি থাকলে আমরা থাকব না।”
অভিভাবকরাও জানান, প্রধান শিক্ষিকার আচরণে তারা অতিষ্ঠ। তারা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে তার দ্রুত অপসারণ দাবি করেছেন।
স্থানীয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রধান শিক্ষিকা মলিনা রানীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।