চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
“ভোটের মাধ্যমেও লুটেরা জালিম আসে, সেটার কারণ মানবতার রাজনীতির শূন্যতা; সমাধান রাজনীতির সংস্কার”—এ কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত গতকাল এক প্রেস কনফারেন্সে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হতে হলে প্রথম শর্ত হলো—সব মানুষের জীবন, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, অধিকার ও সমমর্যাদাবোধ স্বীকার করা। রাষ্ট্র কাউকে বাদ দিয়ে কোনো একক গোষ্ঠীর হতে পারে না। মানবতার রাজনীতি, সর্বজনীন গণতন্ত্র এবং সবার রাষ্ট্র—এ তিন মূলনীতির উপরেই একটি প্রকৃত রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

আল্লামা ইমাম হায়াত আরও বলেন, “জীবনবিরুদ্ধ ও রাষ্ট্রবিরুদ্ধ একক গোষ্ঠীবাদী অপরাজনীতির কারণেই ভোটের মাধ্যমে লুটেরা ও জালিম ক্ষমতায় আসে। তাই ভোট বা নির্বাচন বাদ দেওয়া কোনো সমাধান নয়, বরং রাজনীতির মৌলিক সংস্কারই একমাত্র সমাধান।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোট ছাড়া জনগণের মতামত, মালিকানা ও নাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় না। ভোট অস্বীকার করা মানে জনগণের রাষ্ট্রীয় মালিকানা অস্বীকার করা। তবে মানবতার রাজনীতি অনুপস্থিত থাকলে নির্বাচন শুধু “ডাকাতদের ভাগ-বাটোয়ারা” হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণেই একক ধর্ম, একক জাতীয়তাবাদ বা একক গোষ্ঠীনির্ভর স্বৈররাজনীতিকে সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ করা জরুরি।

আল্লামা ইমাম হায়াত জানান, “রাষ্ট্র কোনো এক ধর্ম, এক মতবাদ, এক জাতি, এক গোষ্ঠী বা এক দলের নয়—রাষ্ট্র সবার। মানবতার রাজনীতি ছাড়া সব রাজনীতিই মানবতাবিরোধী স্বৈররাজনীতি। মানবতার রাষ্ট্র ছাড়া সব মানুষের সমান নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।”

তিনি বলেন, মানবাধিকারের বাস্তব কাঠামোর নাম মানবতার রাষ্ট্র—খিলাফতে ইনসানিয়াত। মানবতার রাজনীতি ছাড়া গণতন্ত্র কেবল একক গোষ্ঠীর স্বৈরতন্ত্র হয়ে যায়, যা রাষ্ট্র ও জীবনের বিরুদ্ধে অপরাধ।