হরিরামপুর প্রতিনিধিঃ
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার দাসকান্দি বয়ড়া (রাখালিয়া বটতলা) এলাকায় দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে সুফিয়া বেগম (৫৫)-এর ওপর অতর্কিত হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের জেরে স্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টায় স্থানীয় আলমাস, তার মেয়ে, জামাতা ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সুফিয়া বেগমের ওপর হামলা চালায়। তার পরিবারের অন্য সদস্যদের না পেয়ে একাধিকবার সুমনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এতে ভয় পেয়ে সুমনের মা সুফিয়া বাধা দিলে তার ওপর বর্বরোচিত হামলা হয়। ভয়-ভীতি ও চাপের কারণে সুফিয়া বেগম স্ট্রোক করেন বলে দাবি পরিবারের।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নিলে রাত ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সরাসরি ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী মঞ্জুয়ারা বেগম জানান, “আলমাস ও তার লোকজন অতর্কিত হামলা করে। আমি বাধা দিতে গেলে আমার ওপরও হামলার চেষ্টা হয় এবং আমাকে আঘাত করা হয়।”
স্থানীয় মজিদ মোল্লা জানান, তিনি ঘটনাস্থলে এসে সুফিয়া বেগমকে আতঙ্কিত অবস্থায় দেখতে পান।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য শরিফুল মোল্লা অভিযোগ করেন যে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামিদের পালাতে সহায়তা করেছে এবং হরিরামপুর থানার এসআই জয়নুল আবেদীন নাকি আসামিদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং মৃত্যুর সার্টিফিকেট বদলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেও দাবি করেন।
মৃত সুফিয়া বেগমের ছেলে সুমন বিশ্বাস বলেন, “আলমাস ও তার সহযোগীরা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এসেছিল। আমাকে না পেয়ে মায়ের ওপর হামলা চালায়। ভয়ভীতির কারণে আমার মা স্ট্রোক করে মারা যান।”
এ বিষয়ে একাধিকবার আলমাসের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঘটনা নিয়ে এসআই জয়নুল আবেদীন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি ও ওসি স্যার ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম।”
এলাকাবাসীর দাবি, এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
হরিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেবো। এসআই জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে আমি অবগত নই; প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”