যশোর প্রতিনিধিঃ
যশোরের মনিরামপুরের কাটাখালি হাজরাইল নলঘোনা (কেএইচএন) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালেও প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতি, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, নিয়োগ বাণিজ্য ও নৈতিক আচরণবহির্ভূত কর্মকাণ্ডসহ একাধিক অভিযোগ ঘিরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় শিক্ষক, কেরানী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ—প্রধান শিক্ষক এম এ মান্নান শিক্ষানীতি বহির্ভূত কাজকে নিয়মে পরিণত করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালীন তিনতলা বিশিষ্ট ভবনের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে পরীক্ষা চললেও প্রধান শিক্ষকের চেয়ার ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্টাফরা জানান, তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ কাজে’ বাইরে গেছেন। কিন্তু উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জানান—সেদিন কোনো অফিসিয়াল ডাকে তাকে ডাকা হয়নি। তদন্তে জানা যায়, তিনি একটি বেসরকারি এনজিওর আয়োজনে মনিরামপুর পৌরসভা হলরুমে উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে—তিনি ইচ্ছেমতো বিদ্যালয়ে আসেন, প্রধান শিক্ষকের কক্ষে বসে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা দেন, বিভিন্ন সময় নিয়োগ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও সহকারী শিক্ষিকা অনামিকার সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগও রয়েছে। এমনকি বার্ষিক পরীক্ষা চলমান থাকা অবস্থায় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে রাজধানীতে একটি সংস্থার অনুষ্ঠানে অংশ নেন বলেও জানা গেছে।
গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে এক অটোরিকশা চালকসহ এলাকাবাসী জানান—প্রধান শিক্ষক মান্নানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা, দলীয় অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিতি এবং দীর্ঘ দুই যুগের ক্ষমতার সুযোগে সম্পদ অর্জনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এক ভুক্তভোগী জানান, তৃতীয় শ্রেণির এক নিয়োগে বিশাল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাকে জোর করে ফাঁকা স্ট্যাম্পে সই করানো হয়। পরে জনরোষে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে চাকরিতে রাখলেও পুরো প্রক্রিয়া ছিল ভয়াবহ চাপের মধ্য দিয়ে।
অভিযোগগুলো যাচাই করতে প্রধান শিক্ষক এম এ মান্নানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নিউজ করতে পারেন। তবে রাস্তা মেরামতের ব্যাপারটা লিখবেন। আমি তো সম্মানীয় মানুষ; একটা পজিটিভ নিউজ করলে ভালো হয়।”
এ বিষয়ে মনিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জিল্লুর রশীদ বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে তাকে শোকজ করব। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”