পটিয়া প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের পূর্ব হুলাইন গ্রামের বাসিন্দা এবং সেনা কর্মকর্তা হত্যা মামলার আসামি লিয়াকত আলী–এর ফাঁসির রায় বহাল হওয়ায় এলাকায় দেখা দিয়েছে স্বস্তি ও উল্লাস। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর ২০২৫) হাইকোর্ট রায় বহাল রাখার খবর প্রকাশিত হলে এলাকায় খুশির বন্যা বইতে শুরু করে।
২০২০ সালের ৩১ জুলাই টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া তল্লাশিচৌকিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার ঘটনায় তখনকার পরিদর্শক লিয়াকতকে প্রধান আসামি করা হয়। একই মামলায় টেকনাফ থানা পুলিশের তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ–কে দ্বিতীয় আসামি করা হয়।
মেজর সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ২০২০ সালের ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করলে এর তদন্তভার র্যাবকে দেওয়া হয়। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার পর চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি আদালত লিয়াকত ও প্রদীপকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। একই রায়ে ৬ জনকে যাবজ্জীবন এবং অন্যান্য আসামিদের খালাস দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার দুই সপ্তাহ পর হাইকোর্টে খালাসপাপ্ত ব্যক্তিরা রায় বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। তবে বিচারিক আদালতের দেওয়া লিয়াকত ও প্রদীপের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখে উচ্চ আদালত।
গ্রামের স্থানীয়রা জানান, লিয়াকত পুলিশে থাকাকালীন এলাকায় নানা অসঙ্গতি, মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষকতা ও মানুষের উপর অযথা হয়রানি করত। অনেকেই তার আচরণে ক্ষুব্ধ ছিলেন দীর্ঘদিন। পুলিশে তার প্রভাব ব্যবহার করে বহু অপরাধী শাস্তি থেকে বাঁচত বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।
ব্যক্তিজীবনে লিয়াকত দুইটি বিয়ে করেছেন। প্রথম বিয়ে চন্দনাইশের হলেও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। দ্বিতীয় বিয়ে করেন বোয়ালখালীর এক নারীকে, যার ঘরে তার নয় বছরের এক শিশু পুত্র রয়েছে।
হাইকোর্টের রায় বহাল থাকায় এলাকাবাসী মনে করছেন, “বহুদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটল”।