চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকে সুসংগঠিত ও আরও শক্তিশালী করতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়ন বিএনপি শুক্রবার (২১ নভেম্বর) আয়োজন করে দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল। উত্তর কাকারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে নেতারা বলেন— এখন সময় ঐক্য, সততা এবং সংগঠনকে আরও দৃঢ় ভিত্তিতে দাঁড় করানোর।

সম্মেলনের প্রধান অতিথি কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না বলেন,
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বিজয় নিশ্চিত করতে প্রতিটি পর্যায়ের নেতাকর্মীকে আরও সক্রিয় হতে হবে। ধানের শীষকে বিজয়ের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর পাশাপাশি আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। তিনি বলেন, “যে কোনো আন্দোলন–সংগ্রামে ঐক্যই হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি। নির্বাচনের মাঠে এই ঐক্যই সালাহউদ্দিন আহমেদের সাফল্য নিশ্চিত করবে।”

সম্মেলনের উদ্বোধক কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও চকরিয়া উপজেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সভাপতি আলহাজ এনামুল হক বলেন,
সালাহউদ্দিন আহমেদ শুধু কক্সবাজার নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও একজন প্রতিষ্ঠিত ও গ্রহণযোগ্য নেতা। তাঁর নেতৃত্বে চকরিয়া–পেকুয়ার উন্নয়ন আরও এগিয়ে যাবে। তিনি অভিযোগ করেন— বিরোধী দলের ওপর নানা চাপ থাকলেও বিএনপি জনগণের সমর্থন নিয়েই আবার সংগঠিত হচ্ছে। “গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চাইলে বিএনপিকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে”— যোগ করেন তিনি।

জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী বলেন,
“বিএনপি জনগণের দল। এখানে নেতৃত্ব আসে তৃণমূলের ভোটে, তৃণমূলের আস্থায়। কাকারা ইউনিয়ন বিএনপির এই সম্মেলনই তার প্রমাণ।”

রফিকুল ইসলাম বলেন— বিচ্ছিন্ন নেতাকর্মীদের একই প্ল্যাটফর্মে এনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
প্রধান বক্তা এম মোবারক আলী বলেন— চকরিয়া বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী। আগামী নির্বাচনে এই শক্তিই হবে দলের বড় সম্পদ।

সাবেক সভাপতি এম মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুছের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী বায়োডাটা জমা দেন। এতে তৃণমূলে নেতৃত্ব গ্রহণের ব্যাপক আগ্রহের প্রতিফলন দেখা যায়।

সভাপতি পদে বায়োডাটা জমা দেন:
জয়নুল আবেদিন, এম মহিউদ্দিন, কবির আহমদ মেম্বার, হামিদ রেজা, শফিকুল ইসলাম শফি, মাহবুবুর রহমান, সাংবাদিক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (আল-মামুন), ইকবাল আমিন চৌধুরী, মো. বেলাল উদ্দিনসহ আরও অনেকে।

সাধারণ সম্পাদক পদে বায়োডাটা জমা দেন:
মোহাম্মদ ইউনুস, নাজেম উদ্দিন, শোয়াইবুল ইসলাম এমএ, মো. হারুন, জিয়াবুল হাসানসহ আরও কয়েকজন প্রার্থী।

নেতৃবৃন্দ বলেন— স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে, যা ইউনিয়ন বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করবে।

সারা ইউনিয়ন থেকে হাজারো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে সম্মেলন মাঠ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন পর এত বড় আয়োজন হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

সম্মেলন শেষে কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় এবং খুব শিগগিরই নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হবে বলে জানান আয়োজকরা।