জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড নিয়ে প্রথমবারের মতো মন্তব্য করেছে পাকিস্তান। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি বলেন, “শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশের জনগণ নিজেদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব বিষয় সমাধান করতে সক্ষম।”

এর আগে, গত ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় প্রসঙ্গে ভারতও মন্তব্য করে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশে ঘোষিত রায়ের বিষয়ে দিল্লি অবগত রয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশের শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ত থাকবে।

এদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে কোনো দেশ আশ্রয় দিলে তা হবে “অবন্ধুসুলভ আচরণ” এবং ন্যায়বিচারের প্রতি স্পষ্ট অবজ্ঞা। বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে দ্রুত হস্তান্তরের অনুরোধ জানায়। দুই দেশের বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী এটি ভারতের জন্য আইনগত দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম মামলা হয়। গত বছরের ১৭ অক্টোবর বিচারকাজ শুরুর দিনে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করে ট্রাইব্যুনাল।