বরগুনা প্রতিনিধিঃ

বরগুনার বেতাগীতে জন্মগত দৃষ্টিহীনতা ও স্ট্রোকজনিত পক্ষাঘাতে দীর্ঘদিন ধরে বিনা চিকিৎসায় কাতরাচ্ছেন বিএনপি কর্মী আজাহার হাওলাদার (৬০)। সরকারি কোনো সহায়তা ছাড়াই তিনি এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পরিবারের ছয় সদস্য নিয়ে দুঃসহ অভাব-অনটনে দিন কাটছে তাদের।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আজাহার হাওলাদার দীর্ঘ সময় ভিক্ষার সামান্য আয় দিয়ে পরিবারের ব্যয় চালিয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তার শরীরের বাম পাশ অবশ হয়ে যায়। এতে চলাফেরা ও আয়ের সব পথ বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে পরিবারটি চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে।

স্থানীয় বিএনপি সূত্র জানায়, আজাহার হাওলাদার জন্মগতভাবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হলেও দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি সদর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সাল থেকে তৎকালীন সাংসদ আখতারউজ্জামান আলমগীরের সময় থেকে তিনি বিএনপির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

গত জুলাই মাসে স্ট্রোকের পর বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। চিকিৎসকদের মতে, স্ট্রোকের কারণে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েছেন এবং নিয়মিত ওষুধ, থেরাপি ও চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে এসব চিকিৎসা আর চালিয়ে যেতে পারছেন না।

আজাহারের স্ত্রী খাদিজা বেগম বলেন,
“ওষুধ আর থেরাপির খরচ চালাতে পারছি না। মেয়ের বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ি থেকেও চাপ আসছে। কেউ সাহায্য করছে না।”

স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, দলীয় রাজনীতিতে নিবেদিত এই কর্মী আজ দারিদ্র্য আর অসুস্থতায় কাতরাচ্ছেন, কিন্তু কোনো দিক থেকেই সাহায্য পাচ্ছেন না।

আজাহার হাওলাদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“জীবনভর আওয়ামী লীগের বাধা সত্ত্বেও বিএনপির হয়ে মাঠে কাজ করেছি। এখন বিছানায় পড়ে আছি। তারেক রহমান ও রুহুল কবির রিজভীর কাছে চিকিৎসা ও সন্তানের পড়াশোনার খরচে সাহায্য চাই।”

বেতাগী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক হুমায়ূন কবির মল্লিক বলেন,
“আজাহারের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। দলের শীর্ষ নেতাদের এই মানবিক বিষয়টি জানানো হবে।”

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ মার্কার উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব এস.এম নুরুল ইসলাম পান্না বলেন,
“অসহায় আজাহারের বিষয়টি বরগুনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী নূরুল ইসলাম মনিরের কাছে তুলে ধরা হবে।”