ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:
রেশম বীজাগার থেকে নিয়মিত বীজ নিচ্ছেন চাষিরা, কিন্তু পষুপালন না করায় বীজগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে রেশম সূতা উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গুটি না পাওয়ায় স্থানীয় রেশম ব্যবসায়ীরা এখন চরম ক্ষতির মুখে।

রেশম ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন জানান, “একজন ব্যবসায়ীর অন্তত ১০০ মণ গুটি না থাকলে রেশম সূতা উৎপাদনের রিলিং মেশিন চালানো সম্ভব নয়।” তিনি অভিযোগ করেন, গুটির মূল্য কম নির্ধারণ করায় রেশম ব্যবসায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি দাবি করেন, রেশম উন্নয়ন বোর্ড যদি গুটির দাম প্রতি মণ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে সরাসরি ক্রয় করে, তাহলে বসনীমহল ও রেশম ব্যবসা টিকে থাকবে।

এদিকে ভারত, চীন, কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও তাজিকিস্তান থেকে রেশম সূতা ও রেশমজাত পণ্যের অনিয়ন্ত্রিত আমদানির কারণে দেশীয় রেশম বাজারে ধস নেমেছে। ফলে ভোলাহাটের প্রায় সাড়ে চারশত রেশম কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, বর্তমানে চালু রয়েছে মাত্র একটি কারখানা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেশম শিল্পকে বাঁচাতে হলে প্রথমেই দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। অনুদান নিয়ে যারা পলুপালন বন্ধ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রকৃত রেশমচাষীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রণোদনা দিতে হবে এবং গুটির দাম যুগোপযোগী নির্ধারণ করতে হবে।

তারা আরও বলেন, বিদেশি রেশমজাত পণ্যের অবাধ আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নচেৎ, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্প বিলুপ্তির পথে যাবে।

অন্যদিকে ভোলাহাটে রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী পরিচালক মো. তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থেকে রাজশাহী প্রধান কার্যালয়ে অবস্থান করেন বলে জানা গেছে। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি।