রাঙ্গাবালী প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় হৃদয়বিদারক এক ঘটনা ঘটেছে। নিজ বসতঘর থেকে স্বামী রাকিব প্যাদা (৩০) ও স্ত্রী সোহাগী বেগমের (২৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর চালিতাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
রাঙ্গাবালী থানার পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামী-স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃত্যুর পেছনে প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ডায়েরির দুই পৃষ্ঠায় পাওয়া যায় তাদের স্বাক্ষরিত চিরকুট। তাতে লেখা ছিল, “মানসম্মান সব গেছে। বাঁচ্ছা (বেঁচে) থাইকা কি হবে? নিজের জীবন নিজে দিছি।” চিরকুটে আরও লেখা ছিল, “আমাদের লাশ যেন পোস্টমর্টেম না করা হয় এবং ঘরের পশ্চিম পাশে পাশাপাশি কবর দেওয়া হয়।”
এই চিরকুটের প্রতিটি লাইন এখন স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—কী এমন অপমান বা সংকট তৈরি হয়েছিল, যার কারণে একসাথে মৃত্যুর পথ বেছে নিলেন এই দম্পতি? এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হোক।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, রাকিব ও সোহাগীর মধ্যে সম্প্রতি পারিবারিক কলহ চলছিল। প্রায় ১০-১২ দিন আগেও ঝামেলা হয়েছিল বলে জানা গেছে। এদিকে তাদের সাত বছর বয়সী একমাত্র ছেলে মুজাহিদ এখন মা-বাবাহারা হয়ে পড়েছে।
চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ দফাদার মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে পরিবার লাশ নামিয়ে ফেলেছিল। স্থানীয়রা বলছেন, তাদের মধ্যে কিছুদিন ধরে কলহ চলছিল।”
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, “চিরকুটসহ সব আলামত জব্দ করা হয়েছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হচ্ছে।”
এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি এখন পুরো রাঙ্গাবালী উপজেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।