কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ
উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের পূর্ব সিকদার বিল এলাকায় বসতভিটা দখলের উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় স্ত্রীকে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মৃত সালাহউদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রী খতিজা আক্তার অভিযোগ করেন—প্রথম স্ত্রীর পক্ষের লোকজন দলবদ্ধভাবে তাকে উচ্ছেদের পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত সালাহউদ্দিন প্রথম বিয়ে করেন ময়মনসিংহের মরিয়মকে। সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন সংসার করেন এবং ব্যবসাবাণিজ্যও পরিচালনা করেন। ব্যবসায় মন্দা দেখা দিলে তিনি নিজ এলাকা উখিয়ায় চলে আসেন। পরবর্তীতে ব্যবসার সন্ধানে টেকনাফে গিয়ে প্রতিষ্ঠান খুলে দ্বিতীয় স্ত্রী খতিজা আক্তারকে বিয়ে করেন।
নিজ এলাকায় দখলীয় ২০ কড়া জমির ওপর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন তিনি। বিয়ের পাঁচ বছর পর সালাহউদ্দিনের বড় ধরনের রোগ দেখা দেয়। এ সময় খতিজা আক্তার বেসরকারি ব্যাংক, প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধারকর্জ করে স্বামীর চিকিৎসা চালিয়ে যান। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সালাহউদ্দিন মারা যান।
অভিযোগ রয়েছে—স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়া সত্ত্বেও প্রথম স্ত্রী মরিয়ম ও তার সন্তানরা আসেননি। কিন্তু সালাহউদ্দিনের মৃত্যুর অনেকদিন পর প্রথম স্ত্রী মরিয়ম বসতভিটা দখলের উদ্দেশ্যে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে থানার অফিসার ইনচার্জ শালিশী বৈঠকের মাধ্যমে ২০ কড়া জমি দুই স্ত্রীকে সমানভাবে ১০ কড়া করে ভাগ করে দেন।
কিন্তু শালিশের কয়েকদিন না যেতেই প্রথম স্ত্রীর পক্ষের লোকজন দশ কড়া জমি দখলের কুমানে খতিজা আক্তারকে মারধর করে উচ্ছেদের চেষ্টা চালায়। এসময় তার পরনের এক জোড়া কানের দুল, একটি বাটন মোবাইল ও মোবাইলে থাকা নগদ বিকাশ সিম ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে তিনি থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।
খতিজা আক্তার অভিযোগ করেন—প্রতিপক্ষ তাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে এবং যে কোনো সময় লাশ গুম করে ফেলার ভয় দেখাচ্ছে। তিনি নিজের নিরাপত্তার জন্য কক্সবাজার জেলার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা কামনা করেছেন।