লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
রাজধানীতে কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের ২৬ খণ্ড মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো দেশজুড়ে নেমে আসে চাঞ্চল্য। গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেটের কাছে দুটি নীল রঙের ড্রামে তার মরদেহের টুকরো পাওয়া যায়। তদন্তে নেমে ডিবি পুলিশ স্বল্প সময়ের মধ্যেই উন্মোচন করে ভয়াবহ এই হত্যার রহস্য।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, ত্রিভুজ প্রেমের জেরে ঘটে এ হত্যাকাণ্ড। আশরাফুল ও তার বন্ধু জরেজুল ইসলাম—দুজনেই বিবাহিত নারী শামীমা আক্তারের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বন্ধুত্বে ফাটল ধরায় একপর্যায়ে আশরাফুলকে নির্মমভাবে খুন করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আশরাফুলকে প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরে মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে নিশ্চিত করা হয় মৃত্যু। এরপর দুই দিন মরদেহ বাসার ভেতরে রাখার পর ২৬ টুকরো করে দুটি ড্রামে ভরে হাইকোর্ট সংলগ্ন এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়।
ডিবি পুলিশ গতকাল শুক্রবার রাতে কুমিল্লা থেকে প্রধান আসামি জরেজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। একই রাতে র্যাব-৩ লাকসাম থেকে প্রেমিকা শামীমা আক্তারকে আটক করে।
শামীমা কুমিল্লার বাসিন্দা। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। স্বামী বিদেশে অবস্থান করছেন। তিন বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জরেজুলের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। দেশে ফিরে আসার পর তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে।
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, “ত্রিভুজ পরকীয়া প্রেমের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। আশরাফুল তার বন্ধু ও প্রেমিকার হাতে খুন হয়েছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে নতুন করে আলোচনায় এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিপথগামী সম্পর্ক ও নৈতিক অবক্ষয়ের বিষয়টি।