ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ

ফরিদপুর–১ (বোয়ালমারী, মধুখালী ও আলফাডাঙ্গা) আসনে সম্ভাব্য মনোনয়ন নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ও বিতর্কিত কিছু ব্যক্তি বিএনপির প্রতীক “ধানের শীষ” থেকে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, দলের প্রতি নিবেদিত, ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতারাই মনোনয়নের যোগ্য।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ফরিদপুরের আলোচিত মানিলন্ডারিং মামলায় চার্জশিটভুক্ত এবং দলীয় রাজনীতিতে বিতর্কিত কিছু ব্যক্তিরা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ করছেন বলে অভিযোগ আছে। এছাড়া ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা একজন আলোচিত ব্যক্তির বিএনপির প্রতীক পাওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানা যায়।

তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, বিপুল অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে কেন্দ্র বাড়ির লোকদের মাধ্যমে প্রার্থী হওয়ার তদবির চলছে। এতে বিএনপির আদর্শিক নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন,
“আদর্শ ও ত্যাগী নেতৃত্বই বিএনপির ভিত্তি। আওয়ামী রাজনীতির সুবিধাভোগীদের ধানের শীষ দিলে তা হবে দলের প্রতি অবিচার।”

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাবু সঞ্জয় সাহা বলেন,
“বিএনপিতে অর্থের বিনিময়ে মনোনয়ন হয় না। যে নেতারা রাজপথে সংগ্রাম করেছে, তারাই প্রাপ্য।”

শ্রমিক দলের সভাপতি মো. আবু জাফর শেখ বলেন,
“১৭ বছর আওয়ামী ক্ষমতার অত্যাচার সহ্য করে তৃণমূল BNP সংগ্রাম চালিয়েছে। এখন আওয়ামী সুবিধাভোগীদের ধানের শীষ দেয়া হলে তা কোনোভাবে মেনে নেয়া হবে না।”

তৃণমূল নেতাদের মতে, “বাইরের প্রভাব” ও “বিতর্কিত ব্যক্তিদের তদবির” বন্ধ না হলে দলের ক্ষতি হবে। তাদের দাবি, ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ফরিদপুর–১ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এলাকা। এখানে তৃণমূলের ভূমিকা শক্তিশালী। তাদের মতামত বিবেচনায় নিলে দলের ভবিষ্যৎ রাজনীতি আরও সংগঠিত ও ফলপ্রসূ হবে।