ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ–৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) আসনে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনীতি। এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী দুই কেন্দ্রীয় নেতা—সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান। দুজনই দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় রাজনীতিক, আর তাদের অনুসারীরাও সমানতালে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে চায়ের দোকান পর্যন্ত এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—ধানের শীষের কান্ডারি হবেন কে? দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি হাইকমান্ড ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকেই প্রাধান্য দেবেন।
তিনবারের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন ১৯৯৬ সালে জাসদ থেকে প্রথমবার নির্বাচিত হন এবং ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দ্বিতীয়বার সংসদে যান। দলে দীর্ঘদিন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করা এই নেতা ২০০৮ সালেও প্রশংসনীয় ভোট পান। তার বিরুদ্ধে প্রায় নয়টি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে, যা তার ত্যাগ ও সংগ্রামী চরিত্রের প্রতীক বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে তরুণ ও উদ্যমী নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান ২০০৯ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বের পরিচয় দেন। তিনি বিএনপির আধুনিক সংগঠন ব্যবস্থার প্রতিনিধি এবং তরুণ ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় মুখ। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি কলিম উদ্দিন মিলনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে দলের প্রার্থী ছিলেন এবং ৯৪ হাজার ভোট পান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুনামগঞ্জ–৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন লড়াই হচ্ছে অভিজ্ঞতা বনাম তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে। কলিম উদ্দিনের অভিজ্ঞতা ও রাজপথের লড়াইয়ের ইতিহাস তাকে এগিয়ে রাখলেও, সংগঠনিক দক্ষতা ও তরুণদের আকর্ষণে মিজানুর রহমান সমানতালে প্রতিযোগিতায় রয়েছেন।
দলীয় নেতারা বলছেন, মনোনয়ন যেই পান, দলের ঐক্য রক্ষা ও সংগঠনের স্বার্থে সবাই একসঙ্গে কাজ করবেন। এখন চোখ সবার বিএনপির হাইকমান্ডের দিকে—ধানের শীষের কান্ডারি হবেন ত্যাগী নেতা কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন নাকি তরুণ সংগঠক মিজানুর রহমান চৌধুরী, সেটিই দেখার বিষয়।