শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি:
ধানের দেশ বাংলাদেশ একই সঙ্গে পানের দেশ হিসেবেও পরিচিত। বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা ধর্মীয় আয়োজনে পান-সুপারি যেন অপরিহার্য অংশ। কিন্তু এখন সেই ঐতিহ্যবাহী পানের বাজারে নেমেছে ভয়াবহ ধস। উৎপাদন খরচ বাড়লেও বিক্রিমূল্য অর্ধেকে নেমে যাওয়ায় চাষিদের চোখে নেমেছে হতাশা।
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁচিকাটা এলাকা দেশের অন্যতম পান উৎপাদন কেন্দ্র। এখানকার “মিষ্টি পান” স্বাদ, ঘ্রাণ ও গুণে দেশ-বিদেশে সমাদৃত। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে পৌরসভা ও আশপাশের দুই ইউনিয়নে প্রায় ১২০ হেক্টর জমিতে ৪৮৭ জন চাষি পান উৎপাদন করছেন। এখানকার পান ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ও বিদেশেও সরবরাহ হয়।
তবে এখন আর আগের মতো বাজারে জৌলুস নেই। মাঠে চাষিরা ব্যস্ত থাকলেও মুখে নেই আনন্দের হাসি।
৬২ বছরের অভিজ্ঞ পানচাষি মালেক সরদার বলেন,
“৩৪ বছর ধরে বরজ করছি। এবারের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। বাজারে নিলে খরচই উঠছে না। এখন না পারছি বরজ ভাঙতে, না পারছি রাখতে।”
আরেক চাষি মিঠুন শাহ বলেন,
“এক বিঘা জমিতে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখনকার দামে তা তোলা তো দূরের কথা, শ্রমিকের মজুরিই উঠছে না।”
চাষি নূর ইসলাম খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“গত বছর এক বিড়া (৭২টি) পান বিক্রি হতো ২২০ টাকায়, এখন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০–৬০ টাকায়। পানচাষে যদি ভর্তুকি বা সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হতো, তাহলে চাষিরা অন্তত টিকে থাকতে পারতেন।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম বলেন,
“আগে শিবচরের পান মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতো। এখন সেই রপ্তানি প্রায় বন্ধ। চাষিদের সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।”
স্থানীয় চাষিদের দাবি, পানচাষে সরকারি সহায়তা, ভর্তুকি ও ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা না হলে এই ঐতিহ্যবাহী পেশা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তারা আশঙ্কা করছেন, যদি এমন ক্ষতি চলতে থাকে, তবে একসময় “ধানের দেশ—পানের দেশ” বাংলাদেশ শুধুই ইতিহাসে পরিণত হবে।