কালিয়াকৈর (গাজীপুর) | ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ঃ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কুকুরের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দলবদ্ধ ও আক্রমণাত্মক কুকুরের বিচরণে আতঙ্কে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ছোট শিশু ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা পড়েছে বেশি ঝুঁকিতে। কুকুরের কামড় ও আঁচড়ে আহত হয়ে প্রতিদিনই অনেকে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

উপজেলার কালিয়াকৈর পৌরসভাসহ ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরতকিতলা, আমতলা মোড়, মাইওয়ান মোড়, ফুলবাড়িয়া, মৌচাক, সফিপুর, বোয়ালী, শ্রীফলতলী, সূত্রাপুর, চাপাইর ও ঢালজোড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যস্ত সড়ক, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার আশপাশে কুকুরের বিচরণ বেড়ে যাওয়ায় পথচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের একা বিদ্যালয়ে পাঠাতেও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা মেডিকেল অফিসার সাদিয়া তাসনিম মুনমুন জানান, কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের ক্ষেত্রে জলাতঙ্কের ঝুঁকি থাকে। তাই আক্রান্ত হওয়ার পর কোনো ধরনের অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ করা জরুরি।

তিনি বলেন, কুকুরের কামড় বা আঁচড় লাগলে ক্ষতস্থান দ্রুত সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। জলাতঙ্ক প্রতিরোধে সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, পাগলা কুকুরের উপদ্রবের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত ভ্যাকসিনেশন ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি অভিভাবকদের শিশুদের একা বাইরে না ছাড়ার পাশাপাশি কুকুরের কাছাকাছি গেলে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

এদিকে কুকুরের উপদ্রব থেকে জনসাধারণকে রক্ষা করতে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য পর্যাপ্ত জলাতঙ্কের টিকা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।