কক্সবাজার,উখিয়া | ৩১ আগস্ট ২০২৬: কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর (হোস্ট কমিউনিটি) মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সামাজিক সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অংশীজন (স্টেকহোল্ডার) কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) উখিয়া উপজেলা স্যাটেলাইট সেন্টারে এনজিও সংস্থা সেড ও এফআইভিডিবি-এর আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উখিয়া উপজেলা বিএনপি নেতা কাজী হেলাল উদ্দিন, উখিয়া উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি দলিলুর রহমান শাহীন, এপিবিএন-৮-এর পুলিশ পরিদর্শক সুব্রত গোলদার এবং জিআইজেডের ক্রাইসিস কনফ্লিক্ট অ্যাডভাইজার জাহিদ হাসান।

এ ছাড়া সাংবাদিক শরীফ আজাদ, তানভীর শাহারীয়ার, গিয়াস উদ্দীন ও সিরাজুল কবির বুলবুলসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশীজনেরা রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদার, অপরাধ প্রতিরোধ, স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।

কর্মশালায় এপিবিএন প্রতিনিধি রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের মধ্যে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা প্রতিরোধ ও ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ধরনের অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সতর্ক ও সক্রিয় হতে হবে। রোহিঙ্গারা কীভাবে ক্যাম্প থেকে বের হয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশিদের সহায়তায় জন্মনিবন্ধন করার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, জনস্বার্থে এনজিওগুলোর সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এনজিও সংস্থাগুলো দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে তিনি তাদের কার্যক্রমে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

এ সময় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। এনজিও সংস্থাগুলোতে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় হোস্ট কমিউনিটির যোগ্য ব্যক্তিদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান ইউএনও।

কর্মশালাটি পরিচালনা করেন প্রকল্প কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন খান। সার্বিক সহযোগিতা করেন এফআইভিডিবির কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাবের।
কর্মশালায় রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ, পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি, নিরাপত্তা জোরদার এবং স্থানীয় জনগণের স্বার্থ সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।