ঝালকাঠি | ৩১ আগস্ট ২০২৬: ঝালকাঠির নলছিটিতে জমি নিয়ে বিরোধ, অবৈধ দখলের অভিযোগ এবং গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী। গতকাল রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে রিপোর্টার্স ক্লাব ঝালকাঠির হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন।
উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী নলছিটি উপজেলার নাচন মহল গ্রামের বাসিন্দা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, নাচন মহল মৌজায় এসএ ২৩০ নম্বর খতিয়ানের ছয়টি দাগে মোট ৩ একর ৭ শতক জমি তাদের পারিবারিক সম্পত্তি। পরবর্তীতে ওই সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকারি গেজেটভুক্ত হয়। ২০১৪ সালে সম্পত্তিটি অর্পিত সম্পত্তি থেকে অবমুক্ত হওয়ার পর বিএস জরিপে ১ একর ৪৬ শতক জমি ১/১ নম্বর খতিয়ানে তার নামে রেকর্ডভুক্ত হয় বলে তিনি জানান।
তার দাবি, বিএস ১/১ নম্বর খতিয়ানের ২৮৯ ও ৩০৫ নম্বর দাগের মোট ৮ শতক জমি তিনি বৈধ রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে আয়নাল হক তালুকদারের কাছে বিক্রি করেন। জমি কেনার পর আয়নাল হক তালুকদার গত ২১ আগস্ট সেখানে থাকা একটি পুরোনো ও পরিত্যক্ত ঘর পরিষ্কার করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জীর অভিযোগ, প্রায় তিন বছর আগে সন্তোষ বিশ্বাসের ভাই সুনীল বিশ্বাস ওরফে কুট্টি বিশ্বাস ওই পরিত্যক্ত ঘরে তালা দিয়ে দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। তিনি ১৯৮৪ সালের একটি কথিত সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে জমির মালিকানা দাবি করছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। তবে উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জীর দাবি, ওই দাবির পক্ষে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রয়োজনীয় দলিলপত্র উপস্থাপন করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী আরও অভিযোগ করেন, জমি সংক্রান্ত ঘটনাকে গণমাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে বৈধ ক্রেতাকে ‘ভূমিদস্যু’ হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণার তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।
তিনি বলেন, জমি নিয়ে বিরোধটি কোনোভাবেই হিন্দু-মুসলিম বিষয় নয়; বরং এটি দলিল, সরকারি রেকর্ড ও প্রচলিত আইনের ভিত্তিতে নিষ্পত্তিযোগ্য একটি সম্পত্তিগত বিরোধ। ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে কোনো পক্ষকে অভিযুক্ত করা হলে তা সামাজিকভাবে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সংশ্লিষ্ট জমির সরকারি রেকর্ড, রেজিস্ট্রি দলিল, গেজেট এবং মালিকানার অন্যান্য নথি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি জানান। একই সঙ্গে কেউ ১৯৮৪ সালের কথিত দলিলের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করলে ওই দলিলের মূল কপি, রেজিস্ট্রি তথ্য ও আইনগত বৈধতা যাচাইয়ের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বৈধ মালিক বা ক্রেতার জমিতে কেউ বেআইনিভাবে প্রবেশ কিংবা দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তার বা বৈধ ক্রেতার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আইনানুগ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানাবেন বলেও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী বলেন, “আমরা চাই দলিল ও আইনের ভিত্তিতে সত্য উদঘাটিত হোক এবং যার বৈধ অধিকার রয়েছে, তার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক।”
তবে জমিটির মালিকানা ও দখল নিয়ে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবির চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি রেকর্ড, দলিলপত্র এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই প্রয়োজন।