রংপুর, ৩১ আগস্ট ২০২৬: রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফল নেগেটিভ এসেছে। পরীক্ষায় তাদের শরীরে মাদক সেবনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী। তিনি জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে রোববার (৩০ আগস্ট) রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে দুই আসামির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে পরীক্ষায় তাদের শরীরে মাদক, বিশেষ করে এমফিটামিনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর ডিবির একটি দল রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যায়। আসামিদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কারাগারেই ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারী পুলিশের সঙ্গে ছিলেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজের সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহের পর তা পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে দুই আসামির শরীরে মাদক সেবনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

চার হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় একটি বাড়ি থেকে গত ২২ আগস্ট রাতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পরে ওই ঘটনায় প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে এর আগে দাবি করা হয়েছিল, হত্যাকাণ্ডের আগে আসামিরা মাদক সেবন করেছিলেন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও মাদক সেবনের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বর্তমান ডোপ টেস্টে মাদকের আলামত না পাওয়ায় এ বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তবে ডোপ টেস্ট নেগেটিভ আসার অর্থ এই নয় যে হত্যাকাণ্ডের সময় তারা মাদক সেবন করেননি—এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও এখন পর্যন্ত পুলিশ দেয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো মাদক শরীরে কত সময় শনাক্তযোগ্য থাকে, তা মাদকের ধরন ও পরীক্ষার নমুনার ওপর নির্ভর করে। রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমফিটামিন সাধারণত প্রস্রাবে কয়েক দিন পর্যন্ত শনাক্ত হতে পারে; দীর্ঘ সময় পর পরীক্ষা করলে ফল নেগেটিভ আসতে পারে।

তদন্ত অব্যাহত

চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে। মামলার তদন্তে আসামিদের বক্তব্যের পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আলামত, ফরেনসিক প্রতিবেদন, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক তথ্য গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ডোপ টেস্টের ফলাফল মামলার তদন্তের একটি অংশ মাত্র। এই ফলের ভিত্তিতে পুরো হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হচ্ছে না। চার হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা কীভাবে জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।