কচুয়া, চাঁদপুর | ২৯ আগস্ট ২০২৬, শনিবারঃ চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভার কড়ইয়া উত্তরপাড়ার শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্বারি মো. মোস্তফা কামাল প্রায় ২৬ বছর ধরে স্থানীয় শিশুদের কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে চার সন্তানকে বড় করা এই মানুষটি এখন নিজের স্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
ক্বারি মো. মোস্তফা কামাল স্থানীয়ভাবে ‘কড়ইয়ার নেংড়া হুজুর’ নামে পরিচিত। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি কড়ইয়া উত্তরপাড়ার অসংখ্য শিশুকে কুরআন শিক্ষা দিয়ে আসছেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
জানা যায়, চাকরিতে থাকা অবস্থায় তিনি কিছুটা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারতেন। তবে চাকরি হারানোর পর গত প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি চলাফেরায় অক্ষম। এরপর মানুষের সহায়তা এবং কড়ইয়া উত্তরপাড়া মসজিদ থেকে পাওয়া সহযোগিতার মাধ্যমে সংসার চালিয়েছেন। এভাবেই চার সন্তানকে বড় করেছেন এবং দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে বর্তমানে তার পরিবারের ওপর নেমে এসেছে আরও কঠিন সংকট। প্রায় ছয় মাস ধরে তার স্ত্রী জোসনা বেগম স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অর্থের সংকটে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্বারি মোস্তফা কামাল।
স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, “আমার তো দেওয়ার মতো কিছুই নেই। শুধু আল্লাহর কাছে দোয়া আর আপনাদের সাহায্য চাই।”
পরিবারটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামর্থ্য অনুযায়ী যে কোনো আর্থিক সহায়তা স্ত্রীর চিকিৎসা চালিয়ে নিতে কাজে আসবে। একই সঙ্গে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে না পারলেও মানবিক কারণে আবেদনটি অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সহায়তার জন্য পরিবারের দেওয়া তথ্য:
বিকাশ/নগদ: 01846-565509
নাম: মোহাম্মদ মোস্তফা
ঠিকানা: কড়ইয়া উত্তরপাড়া, কচুয়া পৌরসভা, কচুয়া, চাঁদপুর।
তবে আর্থিক সহায়তা পাঠানোর আগে রোগীর চিকিৎসার কাগজপত্র, পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরের মালিকানা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
একজন প্রতিবন্ধী কুরআন শিক্ষক দীর্ঘদিন মানুষের সন্তানদের কুরআন শিক্ষা দিয়ে কাটিয়েছেন জীবন। এখন সেই মানুষটিই স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য সমাজের সহানুভূতি ও সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে আছেন।