সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এপেক্স বাংলাদেশের ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জের সাংবাদিক এম টি রহমান মাহমুদকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। দীর্ঘ ৩৭ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরা এবং সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদানের জন্য তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে এপেক্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মনিরুল ইসলাম ভূইয়া, ন্যাশনাল চেয়ারম্যান আবু নাঈম মো. মাকসুদুর রহমান, ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট এস. কে. দত্ত অনুপসহ এপেক্সের সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক এম টি রহমান মাহমুদের সাংবাদিকতা জীবনের শুরু ১৯৮৮ সালে। গোপালগঞ্জের স্থানীয় সংবাদপত্র দৈনিক ভোরের বাণী, দৈনিক যুগকথা ও বাংলার সংকেত-এ কাজের মাধ্যমে তার সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি হয়। কলেজজীবনেই তিনি সাহিত্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হন। প্রতিষ্ঠা করেন অনিক সাহিত্য সংসদ। একই সময়ে বঙ্গবন্ধু কলেজের স্কাউট ও রেডক্রিসেন্ট কার্যক্রমেও দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৬ সালে তিনি দৈনিক দিনকাল-এর গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সংবাদ সংস্থা আবাস, দৈনিক বর্তমানসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেন। দৈনিক খবর-এর সিনিয়র প্রতিনিধি এবং পরবর্তী সময়ে খবর গ্রুপের ব্যুরো প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া সাপ্তাহিক চিত্রবাংলা, সাপ্তাহিক আজকের সূর্যোদয়, দৈনিক প্রাইম, দৈনিক সবুজদেশ ও দৈনিক নিরপেক্ষসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সাংবাদিকতা করেছেন।
২০০০ সালে প্রবাসজীবনে কুয়েতে পাড়ি দিলেও সাংবাদিকতার সঙ্গে তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়নি। কুয়েতে অবস্থানকালে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের আন্দোলন নিয়ে কাজ করেন। কুয়েত সাংবাদিক ক্লাবের প্রচার সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
প্রবাসে থাকাকালে কুয়েত সরকারের অনুমোদিত মাসিক ‘মরু লেখা’-এর বার্তা সম্পাদক এবং ‘এগারোশে বাংলা’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় সাংবাদিকতা ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের নানা সামাজিক বিষয়েও সক্রিয় ছিলেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চায়ও এম টি রহমান মাহমুদের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার তিনটি যৌথ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে বলে তার দেওয়া জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ করা হয়েছে। সাহিত্য অঙ্গনে অবদানের জন্যও তিনি বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।
দেশে ফিরে তিনি আবারও সাংবাদিকতায় সক্রিয় হন। বর্তমানে তিনি দৈনিক সকালের সময়-এর স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইন ও সংবাদমাধ্যমে সাংবাদিকতা করছেন। ২০২৬ সালের প্রকাশিত প্রতিবেদনে দৈনিক সকালের সময়-এর স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে তার নাম রয়েছে।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত এম টি রহমান মাহমুদ। তিনি প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জের ২০০০-২০০১ সালের অর্থসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি গোপালগঞ্জ সাংবাদিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে গোপালগঞ্জ সাংবাদিক ক্লাবের নতুন কমিটি গঠনের সময় তাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এছাড়া তিনি গোপালগঞ্জ রেডক্রিসেন্টের আজীবন সদস্য, টুঙ্গিপাড়ার গহরডাঙ্গা মাদ্রাসার আজীবন সদস্য এবং গোপালগঞ্জ এপেক্স ক্লাবের মেম্বারশিপ ও অ্যাটেনডেন্স ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সামাজিক সংগঠন গ্রিন ফোর্স, গোপালগঞ্জের সঙ্গেও তিনি যুক্ত রয়েছেন।
এম টি রহমান মাহমুদের সাংবাদিকতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য শ্রমজীবী, সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কথা সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরা। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি স্থানীয় সমস্যা, সামাজিক নানা অসঙ্গতি, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার এবং জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করেছেন।
গোপালগঞ্জের সাংবাদিকতা অঙ্গনে তার সক্রিয়তার প্রমাণ হিসেবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনেও তার ভূমিকার উল্লেখ পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে গোপালগঞ্জ সাংবাদিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং মাঠপর্যায়ের সাংবাদিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে সাংবাদিকতার পাশাপাশি জাতীয় কবিতা পরিষদ, গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন এম টি রহমান মাহমুদ। ফলে সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তার সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে।
তার সাংবাদিকতা জীবনে সাংবাদিক নেক মোহাম্মদ, সাংবাদিক ও কবি জাহাঙ্গীর হোসেন বাবলু, আহ জুবায়েদ এবং মাসিক মরু লেখার সম্পাদক আব্দুর রউফ মাওলাসহ কয়েকজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিককে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে স্মরণ করেন তিনি।
এপেক্স বাংলাদেশের ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য এম টি রহমান মাহমুদকে দেওয়া সম্মাননা তার দীর্ঘ কর্মময় জীবনের একটি স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এপেক্স বাংলাদেশ ১৯ জুলাই ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি সেবামূলক সংগঠন। সংগঠনটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠার তারিখ হিসেবে ১৯ জুলাই ১৯৬১ উল্লেখ রয়েছে। ২০২৬ সালের বিভিন্ন জেলায় এপেক্স বাংলাদেশের ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচি পালনের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
১৯৮৮ সালে স্থানীয় সংবাদপত্রে সাংবাদিকতার যাত্রা শুরু করে ২০২৬ সালেও সক্রিয় রয়েছেন এম টি রহমান মাহমুদ। স্থানীয় সংবাদপত্র থেকে জাতীয় সংবাদমাধ্যম, দেশ থেকে প্রবাস এবং সাংবাদিকতা থেকে সাহিত্য—দীর্ঘ ৩৭ বছরের এই পথচলায় তিনি নিজের কর্মপরিধিকে বহুমাত্রিক করেছেন।
তার দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের এই স্বীকৃতিতে গোপালগঞ্জের সাংবাদিক ও সাহিত্য অঙ্গনে নতুন প্রজন্মের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা রয়েছে—সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, মানুষের কথা বলা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা ধরে রেখে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব।
দৈনিক আমাদের বসুন্ধরা পরিবারের পক্ষ থেকে সাংবাদিক এম টি রহমান মাহমুদের দীর্ঘ কর্মময় জীবনের সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও আরও সমৃদ্ধ পথচলা কামনা করা হয়েছে।
এপেক্স বাংলাদেশের ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য: “1 Country 1 Apex, 65th Day!”