সাতক্ষীরা, আশাশুনি | ২৭ আগস্ট ২০২৬: উপকূলীয় উপজেলা সাতক্ষীরার আশাশুনিতে জাইকার অর্থায়নে চলমান বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের যোগসাজশে সিডিউলবহির্ভূত কাজ, নিম্নমানের সিসি ব্লক তৈরি, প্যাকেজের কাজ অন্যত্র স্থানান্তর এবং সরকারি নথিতে কথিত ব্যাকডেট দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগগুলো সত্য হলে সরকারি অর্থের অপচয় বা অনিয়মের পাশাপাশি উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা প্রয়োজন।

আশাশুনি উপ-বিভাগের আওতাধীন জাইকার চারটি প্যাকেজের মধ্যে ২ নম্বর প্যাকেজের (হাজরাখালি) কাজ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ওই প্যাকেজের কাজের কিছু অংশ ৩ ও ৪ নম্বর প্যাকেজের আওতাধীন কোলা এলাকায় অন্য ঠিকাদারের মাধ্যমে করা হচ্ছে।
কাজ স্থানান্তরের বিষয়ে সাইটে উপস্থিত কর্মচারীদের কাছে লিখিত ‘অফিস অর্ডার’ কিংবা প্যাকেজ বাতিলের ‘ক্যানসেলেশন পেপার’ দেখতে চাওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে তা দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে প্রশাসনিক বা প্রকল্প ব্যবস্থাপনার অনুমোদন নিয়ে কোনো কাজের প্যাকেজ পরিবর্তন হয়ে থাকলে তার যথাযথ নথি থাকার কথা। তাই সংশ্লিষ্ট অনুমোদন, চুক্তিপত্র, কাজের পরিমাণ, বিল এবং সংশোধিত প্রকল্প নথি যাচাই করলেই বিষয়টির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আরিফুজ্জামানের নির্দেশনা এবং সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম ও শাখা কর্মকর্তা আব্দুল আলিমের সহায়তা বা ভূমিকা রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, আশাশুনির উপকূলীয় বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। জাইকার অর্থায়নে চলমান বাঁধ প্রকল্পের বিভিন্ন অংশে কাজের অগ্রগতি ও বরাদ্দ নিয়ে এর আগেও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনে ঘোলা-গরালী খেয়াঘাট এলাকার দুটি প্যাকেজে মোট প্রায় ১২৯ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

এ অবস্থায় প্রকল্পের পুরো নথিপত্র যাচাই, নির্মাণসামগ্রীর গুণগত পরীক্ষা, সিসি ব্লকের ল্যাব টেস্ট, কিউরিং পদ্ধতি, ব্লক উৎপাদনের তারিখ, কাজের পরিমাণ, প্যাকেজ পরিবর্তনের অনুমোদন এবং ঠিকাদারদের বিল-ভাউচার পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

একই সঙ্গে নিরপেক্ষ প্রকৌশলী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রকল্পটির কারিগরি অডিট এবং সরেজমিন তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

প্রতিবেদনের ভারসাম্য রক্ষায় বলা প্রয়োজন, এখানে উত্থাপিত অনিয়ম ও যোগসাজশের অভিযোগগুলো স্থানীয়দের অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এগুলো এখনো তদন্ত বা আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত নয়। পাউবো কর্মকর্তা, প্রকল্প পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন বা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।