কুড়িগ্রাম | ২৭ আগস্ট ২০২৬: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মাদকবিরোধী ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও ক্যাসিনো-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) উপজেলার দেওয়ানের খামার ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—দেওয়ানের খামার এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মো. শিপন রহমান (৩৩), মো. মোজাহার আলীর ছেলে মো. শাকিল বাবু (১৯), মো. অপু শেখের ছেলে মো. হাসিবুল ইসলাম (৩২) এবং আলম মিয়ার ছেলে মো. শাকিল আহম্মেদ (১৬)।
পুলিশের দাবি, অভিযানে শিপন রহমানের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম, অনলাইন ক্যাসিনো খেলায় ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন এবং নগদ ৮৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ভূরুঙ্গামারীর দেওয়ানের খামার এলাকার বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত ও সুপারিবাগানকে কেন্দ্র করে একটি চক্র নিয়মিত ইয়াবা সেবন ও ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিল। চারদিকে খোলা জায়গা থাকায় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা দ্রুত পালিয়ে যেত। এ কারণে তাদের ধরতে পুলিশ সুপারি ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে কৌশলী অভিযান পরিচালনা করে।

ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুনতাসির মামুন মুনের নেতৃত্বে এসআই সাইফুল ইসলাম ও এসআই আল-আমিন অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের প্রথম পর্যায়ে শাকিল বাবু, হাসিবুল ইসলাম ও শাকিল আহম্মেদকে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিপন রহমানের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ৬০ পিস ইয়াবা, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম, অনলাইন ক্যাসিনো-সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহৃত স্মার্টফোন এবং নগদ ৮৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, শিপন রহমান ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড এলাকার একজন মাদক ব্যবসায়ী ও অনলাইন জুয়া/ক্যাসিনো ডিলার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে নজরদারিতে ছিলেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, সম্প্রতি একটি অনলাইন ক্যাসিনো ওয়েবসাইটে জ্যাকপট পেয়ে তিনি প্রায় ১২ লাখ টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন—এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। তবে এ দাবির বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ায় তথ্য-প্রমাণ যাচাই হবে।

উল্লেখ্য, অনলাইন জুয়া ও বেটিংসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার কার্যক্রমকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকারি গেজেটেও ২০২৬ সনের ৯৮ নম্বর আইন হিসেবে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রকাশিত হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, শিপন রহমান দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন। বিশেষ অভিযানে তাকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদক ও অনলাইন জুয়া/ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
সাম্প্রতিক সময়েও ভূরুঙ্গামারীতে মাদক, চোরাচালান ও সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের একাধিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে।