মাহবুব হাসান, স্টাফ রিপোর্টার

ভোলা জেলার সদরসহ বিভিন্ন শাখায় দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও সম্প্রতি মিথ্যা ও ভয়ভীতি সৃষ্টির অভিযোগে বন্দি হয়ে পড়েছেন এস এম ফরিদ। তিনি বর্তমানে ভোলা জেলার Agrani Bank PLC-এর ইসলামিক উইন্ডোতে ম্যানেজার হিসেবে বহাল রয়েছেন।

তথ্য অনুযায়ী, ফরিদ ২০১৭ সালের মার্চ থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় পর্যায়ে “বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাত” করার দায়ে তাকে পটুয়াখালী শাখায় বদলি করা হয়।

পটুয়াখালী আঞ্চলিক কার্যালয়ে থাকার সময় তিনি ঋণ-ফাইলে স্বাক্ষর ও বড় অংকের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন অনিয়মে লিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর ২০১৮ সালে তিনি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অডিট ডিভিশনে পদায়ন পান।

খানা দিচ্ছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা,

“অডিট সেশনে এসে ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।”
এমনই এক বক্তব্য পাওয়া গেছে নাম প্রকাশ না করার শর্তে।

উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ২০১৭ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়, এবং প্রতিবেদনে স্পষ্ট লেখা ছিল — ভোলা থেকে তাকে অন্যত্র বদলি করা হোক এবং ভবিষ্যতে ম্যানেজার হিসেবে প্রদায়ন করা উচিত নয়। ওই নথিগুলো সংরক্ষিত রয়েছে প্রধান কার্যালয়, অডিট ডিভিশন (বরিশাল সার্কেল) ও ভোলা অঞ্চলে।

তারপরও ২০২০ সালে তিনি আবার ভোলা জেলার কালিনাথ রায়য়ের বাজার শাখায় ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ পান — যা ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার নিয়মের বিরুদ্ধে বলেই অভিযোগ উঠেছে। এখানে অভিযোগ আছে, তিনি ঋণ বিতরণকালে ১০ % ঘুষ নিয়েছেন এবং নিজ-স্ব সম্পদ গড়েছেন।

গ্রাহক ও স্থানীয় সূত্র বলছে, তিনি ভোলা সদর এলাকায় ৮ % জমির ওপর ৪ তলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট ভবনের ২ তলা নির্মাণ করেছেন। ব্যাংক থেকে নেওয়া একটি লোনের ক্ষেত্রে বলেছে “৩ তলা সম্পন্ন হয়েছে” প্রতীয়মান করে বাড়ির ৪ তলা বরাদ্দ টাকা নিয়েছেন — যদিও প্রকৃতিতে ২ তলাই হয়েছে ও বাকি তহবিল অন্য কাজে ডাইভার্ট করা হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ব্যাংকের গ্রাহক মনে করছেন,

“এই সম্পদের উৎস কোথায়?”
তাদের প্রশ্নটি এখন ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও মুখ্য।

 

অতিরিক্তভাবে, ফরিদের সাথে অন্য এক কর্মকর্তা এ আর এম ইউসুফ–রও নাম যুক্ত হয়েছে যিনি এক সময়ে ভোলা শাখায় বদলি হয়ে গিয়েছিলেন হোটেলে নারীসহ ধরা পড়ার কারণে। এখন ফের পদায়ন পেয়েছেন ভোলা শাখায় — এই নিয়েও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ পরিবেশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে গ্রাহক ও কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এই দুই কর্মকর্তার কারণে ভোলা শাখায় ঋণ বিতরণ ও সি সি পার্টি বৈঠকে নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রম চালু রয়েছে। যেমন–

মেসার্স আল আমিন এন্টারপ্রাইজ: ১০ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে ২৮ লক্ষ টাকা (২.৮ গুণ)

মেসার্স সাবিহা ডেইরি ফার্ম: ১৫ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ লক্ষ (২.৩৩ গুণ)

মেসার্স মেঘনা সল্ট: ২৮ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে ৫০ লক্ষ

এই ঋণসমূহের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, শাখার নিয়ম অনুযায়ী যথেষ্ট মালামাল বা জামানত নেই।

ব্যাংকের উপরের পর্যায়ে রয়েছে গণেশ চন্দ্র দেবনাথ–এর মতো অঞ্চল প্রধান, যিনি পত্রিকার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিলেন — তবে ফোন রিসিভ করেননি।

এই অবস্থায় সাধারণ গ্রাহক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উদ্বিগ্ন যে, অধিক কদাচিৎ কি ব্যাংক নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা প্রতিস্থাপনমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে? যদি না হয়, তাহলে দেশের সাধারণ গ্রাহক-বিশ্বাস ও ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা বিপন্ন হবে।

তথ্যভিত্তিক ও অভিযোগভিত্তিক এসব উপাত্তের পরেও স্পষ্ট হলো — একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখায় দীর্ঘদিন নিয়োগ পাওয়া এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, তার অনুসন্ধান ও জবাবদিহি এখনও তাৎক্ষণিক না। গ্রাহক-সেবা ও অর্থনৈতিক ধারাবাহিকতা সংরক্ষণের দিক থেকে এখন সময় এসেছে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপের।