শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার এবং অনুমোদিত মাত্রার বেশি শব্দ উৎপাদনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে লালমনিরহাটে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বিত টাস্কফোর্স। অভিযানে ছয়টি যানবাহনের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা দায়ের করে মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১০টি নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করে ঘটনাস্থলেই ভেঙে ফেলা হয়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সদর উপজেলার লালমনিরহাট-রংপুর মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, আনসার ও পুলিশের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার এবং অনুমোদিত মাত্রার অধিক শব্দ উৎপাদনের দায়ে ছয়টি যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এসব মামলায় মোট ৬ হাজার টাকা নগদ জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযানের সময় যানবাহনে ব্যবহৃত ১০টি নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা হর্নগুলো ঘটনাস্থলেই ভেঙে ফেলা হয়
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মীর ফয়সাল আলী, মো. আল-আমিন এবং মো. মামুনুর রশীদ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
অভিযানে প্রসিকিউশন পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, লালমনিরহাট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বিজন কুমার রায়। পুলিশ ও আনসার সদস্যরা অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বিজন কুমার রায় জানান, শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। যানবাহনে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার শব্দদূষণের অন্যতম কারণ। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি আইনানুগ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত শব্দ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে যানবাহনে নিষিদ্ধ হর্নের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ।
লালমনিরহাটে পরিচালিত এ অভিযানের মধ্য দিয়ে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হলো। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও আইনানুগ অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে।