হরিণাকুণ্ডু, ঝিনাইদহ | ২৫ আগস্ট ২০২৬ : ‘লেনদেন হচ্ছে ক্যাশলেস, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে ‘ক্যাশলেস হরিণাকুণ্ডু, ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এবং এনআরবিসি ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) হরিণাকুণ্ডুতে উৎসবমুখর পরিবেশে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

কর্মসূচির আওতায় সর্বজনীন ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা ‘এক দেশ এক QR’ ও ‘বাংলা QR (BANGLA QR)’ ব্যবহারের প্রচার এবং এর সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সার্বজনীন বাংলা কিউআর কোড ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীসহ সাধারণ গ্রাহকরা দ্রুত, সহজ ও নিরাপদে ডিজিটাল লেনদেন করতে পারবেন। এর ফলে নগদ অর্থের ব্যবহার ও তা বহনের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি লেনদেন আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে।

বক্তারা আরও বলেন, ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আধুনিক আর্থিক সেবায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার ঘটলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উদ্যোগটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী লিড ব্যাংক হিসেবে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছে এনআরবিসি ব্যাংক। স্থানীয় পর্যায়ে এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংক।

সোনালী ব্যাংক হরিণাকুণ্ডু শাখার ব্যবস্থাপক জেএম মোবাশ্বর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ্ত রায় দীপন।

প্রধান আলোচক হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনার প্রতিনিধি নাফিউল করিম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনআরবিসি ব্যাংকের খুলনা ও বরিশাল বিভাগীয় প্রধান আব্দুল হালিম, হরিণাকুণ্ডু প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুস সামাদ, সাধারণ সম্পাদক নাজমুর হুদা রিপন, সাহেলা বেগম ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আনিচুর রহমান, হরিণাকুণ্ডু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তাইজেল হোসেন, সালেহা বেগম ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোক্তার আলীসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

আয়োজকরা জানান, ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে নগদবিহীন লেনদেনের পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।