লালমনিরহাট | ২৪ আগস্ট ২০২৬ : লালমনিরহাটের পাটগ্রামে অষ্টম শ্রেণির এক কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় তার সৎ বাবা মো. আরিফুল ইসলাম লেলিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে লালমনিরহাটের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও দায়রা জজ নিত্যানন্দ সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা মারা যাওয়ার পর তার মা মো. আরিফুল ইসলাম লেলিনকে বিয়ে করেন। এরপর কিশোরী তার মা ও সৎ বাবার সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করত।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সৎ বাবা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে ও জোরপূর্বক কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। কিশোরীর মা বাড়ির বাইরে থাকলে বিভিন্ন কৌশলে তাকে একা পেয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়।

একপর্যায়ে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি সে তার মাকে জানালে পাটগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার আদালত আসামি মো. আরিফুল ইসলাম লেলিনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি জানান, আদালতের রায়ে ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে বিচারিক বার্তা

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মতে, এ ধরনের অপরাধে আদালতের কঠোর সাজা শিশু ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মামলাটি দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রায়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে।

আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে।