কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ | ২২ আগস্ট ২০২৬: দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট কাটিয়ে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া-টোক-কাপাসিয়া-রাজেন্দ্রপুর সড়ক চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ এবং পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সরকারি কার্যক্রম শুরু হওয়ায় এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের আশা করছেন স্থানীয়রা।
সাম্প্রতিক সরকারি ও গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনের ডিও পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে কটিয়াদী উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড থেকে পাকুন্দিয়া থানার ঘাট হয়ে টোক, কাপাসিয়া ও রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রধান সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। ১৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত সংশ্লিষ্ট চিঠিটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের একটি পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চার লেনের সড়ক বাস্তবায়িত হলে কিশোরগঞ্জের সঙ্গে গাজীপুর ও ঢাকার যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এর পাশাপাশি পাকুন্দিয়ার পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগও সামনে এসেছে। ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন সেতু নির্মাণের দাবি তুলে ধরেন।
এর পরদিন ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জল হোসেনের স্বাক্ষরিত পত্রে পাকুন্দিয়ার মুনিয়ারীকান্দা-দত্তেরবাজার এবং মির্জাপুর-টাংগাবর এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর দুটি সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে ১৬ আগস্ট জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে উপস্থিত হন। এর আগে তিনি পাকুন্দিয়ায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।
স্থানীয়দের মতে, কটিয়াদী-পাকুন্দিয়ার যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নত হলে কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে। বর্তমানে নদী ও সড়ক যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে সময় ও পরিবহন ব্যয় বেশি হয়। সেতু ও উন্নত সড়ক নির্মাণ হলে এ ব্যয় কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য বৃহত্তর বাজারে দ্রুত পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।
ব্যবসায়ীরাও মনে করছেন, চার লেনের সড়ক এবং ব্রহ্মপুত্রের ওপর সেতু নির্মিত হলে কটিয়াদী-পাকুন্দিয়ার সঙ্গে গাজীপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে। এতে নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা, পণ্য পরিবহন বৃদ্ধি, কৃষিভিত্তিক ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে।
বিশেষ করে কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া হয়ে টোক-কাপাসিয়া-রাজেন্দ্রপুর করিডোরটি উন্নত হলে কিশোরগঞ্জের সঙ্গে গাজীপুর ও রাজধানী ঢাকার আঞ্চলিক যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। চার লেনের সড়ক বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
তবে এসব উদ্যোগের অধিকাংশই এখনো বাস্তবায়নের প্রাথমিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হলে তবেই কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সড়ক উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কটিয়াদী-পাকুন্দিয়ার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে তৈরি হবে নতুন কর্মচাঞ্চল্য।