বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর পদত্যাগের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিকীকরণ এবং টুর্নামেন্টের সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ যুক্ত করার বিতর্কিত উদ্যোগের প্রতিবাদে এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবল সমর্থক সংগঠনগুলো ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনফান্তিনোর পদত্যাগ এবং ফিফার ব্যাপক সংস্কারের দাবিতে Change.org-এ একটি পিটিশন চালু হয়েছে। পিটিশনে ফিফার ছয়টি কনফেডারেশনজুড়ে বিভিন্ন সমর্থক সংগঠনের সমর্থন রয়েছে।
সমর্থকদের অভিযোগ, বিশ্বকাপসহ ফিফার গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনাটি যথেষ্ট স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হয়নি। তাদের ভাষ্য, ফুটবল কেবল কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক সম্পদ নয়; এটি কোটি কোটি মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ।
ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে ফিফা ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (FFE) নামে একটি বাণিজ্যিক কাঠামোর মাধ্যমে বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা করেছিল। তীব্র বিরোধিতা ও সদস্য সংগঠনগুলোর চাপের মুখে ৩১ জুলাই ফিফা সেই প্রস্তাব বাতিল করে।
এই পরিকল্পনা ঘিরে ফিফার ভেতরেও বিরোধ দেখা দেয়। ফিফার সাবেক প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুর পরিকল্পনাটির প্রকাশ্য সমালোচনা করার পর ১৭ আগস্ট তার সঙ্গে সংস্থাটির কর্মসম্পর্ক শেষ হয়। একই বিতর্কের সময় ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কোরদেইরোও পদত্যাগ করেছিলেন।
পদত্যাগের পাশাপাশি সমর্থক সংগঠনগুলো ফিফার পরিচালন কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কারের দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে পূর্ণ স্বচ্ছতা, নির্বাহী ক্ষমতার ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য এবং ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সমর্থক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনের আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা।
Football Supporters Europe-এর নির্বাহী পরিচালক রোনান এভাঁ বলেছেন, ইনফান্তিনোর বিদায়কে ফিফার সংস্কারের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা উচিত। তার মতে, একজন সভাপতির হাতে এত বেশি ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়া ফিফার বর্তমান শাসনব্যবস্থার দুর্বলতাকে তুলে ধরে।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে শুধু সমর্থক সংগঠন নয়, বিভিন্ন ফুটবল ফেডারেশন ও কনফেডারেশন থেকেও চাপ বাড়ছে। নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশন এরই মধ্যে ইনফান্তিনোর পদত্যাগের প্রকাশ্য দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে UEFA, AFC ও Concacaf-এর শীর্ষ পর্যায় থেকেও তার নেতৃত্ব নিয়ে অনাস্থা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
১৯ আগস্ট ফিফার ভাইস প্রেসিডেন্টদের একজন সান্দোর চ্যানি প্রকাশ্যে জানান যে ইনফান্তিনোর ওপর তার আস্থা নেই। এর ফলে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বে ইনফান্তিনোবিরোধী অবস্থান আরও জোরালো হয়েছে।
তবে ইনফান্তিনোর প্রতি এখনো কিছু অঞ্চলের ফুটবল প্রশাসনের সমর্থন রয়েছে। ফলে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অনিশ্চিত। আগামী বছরের ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে এই বিরোধ আরও তীব্র হতে পারে।
ফুটবল সমর্থকদের পিটিশন ও ফিফার নেতৃত্ব নিয়ে চলমান বিরোধ বিশ্ব ফুটবলের বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির প্রশ্নকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।