ঝিনাইদহ, ২০ আগস্ট ২০২৬: ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে মাদকবিরোধী যৌথ অভিযানে ৮৩ পিস ইয়াবাসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই দিনে পৃথক অভিযানে গাঁজা সেবনের অভিযোগে আরও একজনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রদীপ্ত রায় দীপনের নেতৃত্বে এবং ঝিনাইদহ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) অপূর্ব বিশ্বাসের সঙ্গীয় ফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দি গ্রামে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৮৩ পিস ইয়াবাসহ সবুজ হোসেন (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে।
অন্যদিকে, একই দিন পৃথক একটি অভিযানে উপজেলার ফলসী ইউনিয়নের কুলবাড়িয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় কামাল বাসার নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে।
পরে আটক দুজনকে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে ইউএনও প্রদীপ্ত রায় দীপন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
আদালতের রায়ে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার সবুজ হোসেনকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং গাঁজা সেবনের দায়ে কামাল বাসারকে ১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
দণ্ডাদেশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় চত্বরে জব্দ করা ৮৩ পিস ইয়াবা, উদ্ধার করা গাঁজা এবং সেবনের আলামত জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ্ত রায় দীপন বলেন, “উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করা হয়েছে। তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা ও হরিণাকুণ্ডুকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসনের এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় পর্যায়ে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি এ অভিযানের মধ্য দিয়ে আবারও উঠে এসেছে।