ঠাকুরগাঁও | ১৯ আগস্ট ২০২৬: বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) সংসদীয় আসনটি শূন্য হবে। ফলে আসনটিতে সম্ভাব্য উপনির্বাচন এবং বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন—এ নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনা ও সাম্প্রতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে দুটি নাম—মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন এবং তার বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা। তবে এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের জন্য কোনো প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে মির্জা পরিবারের দীর্ঘদিনের প্রভাব রয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা মির্জা রুহুল আমিন (চখা মিয়া) ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের পৌর মেয়র, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী। মির্জা ফখরুল নিজেও দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় পৌর চেয়ারম্যান থেকে সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রী হয়েছেন।

২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয় পান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তার ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিনকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। তিনি বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং দীর্ঘদিন ধরে জেলার রাজনীতিতে সক্রিয়। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি রংপুর বিভাগ থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পেয়েছেন।

মির্জা ফয়সল আমিনের রাজনৈতিক পরিচিতি শুধু পারিবারিক সূত্রে নয়; জেলা বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তিনি দীর্ঘদিন মাঠের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বড় ভাই মির্জা ফখরুলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় ছিলেন তিনি।
সম্প্রতি গণমাধ্যমকে মির্জা ফয়সল আমিন বলেছেন, নেতাকর্মী থেকে সাধারণ মানুষ—অনেকেই তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান। আবার কেউ কেউ তার ভাতিজি শামারুহ মির্জাকেও প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে, জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে তিনি তার পক্ষেই কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।

মির্জা ফখরুলের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জার নামও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাবার পক্ষে প্রচারে সক্রিয় ছিলেন। ভোটের মাঠে তার উপস্থিতি স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশের নজর কেড়েছে।

তবে শামারুহ মির্জাকে বিএনপির পক্ষ থেকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী করার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেই। ফলে তিনি প্রার্থী হবেন—এমন কোনো বিষয় নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির সামনে মূলত দুটি রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে। একদিকে মির্জা পরিবারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয়ভাবে পরিচিত মুখকে সামনে আনার বিষয়টি রয়েছে; অন্যদিকে দলীয় রাজনীতিতে নতুন কোনো যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতাকে প্রার্থী করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে মির্জা ফয়সল আমিন ও ড. শামারুহ মির্জার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকলেও দল চাইলে অন্য কাউকেও মনোনয়ন দিতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে এ নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

ঠাকুরগাঁও শহর থেকে সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন—বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন আলোচনার কেন্দ্রে একটাই প্রশ্ন, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার আসনে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী?
দলের একটি অংশ মনে করছে, দীর্ঘদিনের মাঠের রাজনীতি, জেলা বিএনপির নেতৃত্ব এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে মির্জা ফয়সল আমিন এগিয়ে থাকতে পারেন। অন্যদিকে আরেকটি অংশ শামারুহ মির্জার নাম সামনে আনছে। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারে তার সক্রিয় ভূমিকা নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।
তবে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও মনোনয়ন বোর্ডের। স্থানীয় নেতারা বলছেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।

মির্জা ফয়সল আমিন নিজের রাজনৈতিক পরিবারের ইতিহাস তুলে ধরে জানিয়েছেন, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে রাজনীতিতে যুক্ত। তিনি বলেন, তার বাবা জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন এবং তার বড় ভাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও জেলা বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নিজেও জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি আরও বলেন, অনেক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান। আবার কেউ কেউ তার ভাতিজি শামারুহ মির্জাকে দেখতে চান। তবে এখন পর্যন্ত দলের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দল যোগ্যতার ভিত্তিতে যাকে মনোনয়ন দেবে, তার জন্যই তিনি কাজ করবেন।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য পদে না থাকলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হবে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের তফসিল ও বিএনপির আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন ছাড়া প্রার্থিতার বিষয়টি চূড়ান্ত নয়।

ফলে আপাতত ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সবচেয়ে আলোচিত দুই নাম মির্জা ফয়সল আমিন ও ড. শামারুহ মির্জা হলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি পরিবার থেকে কাউকে মনোনয়ন দেবে, নাকি মাঠের রাজনীতির অন্য কোনো নতুন মুখকে সামনে আনবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হওয়া শুধু জাতীয় রাজনীতিতেই নয়, ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় রাজনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের সমীকরণ তৈরি করতে পারে।